Pabna



দুবলিয়ায় নিখোঁজের ৪দিন পর মাটির নীচ থেকে স্কুল ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার


বিশেষ প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
নিখোজের চারদিন পর পাবনার দুবলিয়া গ্রামের একটি হলুদ ক্ষেত থেকে এক স্কুল ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে মাটিতে পুঁতে রাখা মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আশিক মাহমুদ অনি (১৪) দুবলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রবিউল প্রামানিকের ছেলে ও দুবলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। এ ঘটনায়  পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করেছে। 

আতাইকুলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গত সোমবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অনি দুবলিয়া বাজারে একটি দোকানে বসে ছিল। এ সময় একটি ফোন কল পেয়ে সে দোকান থেকে বের হয়ে যায়। পরে সে আর বাড়ি ফিরে আসে নাই। তবে ওই রাতেই অনির মুঠোফোন থেকে একটি খুদে বার্তা আসে “ বাবা আমি ঢাকা যাচ্ছি, আমার কিছু ভালো লাগে না”। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ২৭ নভেম্বর আতাইকুলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন বাবা রবিউল প্রামানিক। এরই মধ্যে কয়েকটি ফোন থেকে তার বাবার নিকট মুক্তিপনও দাবী করেন দূর্বৃত্তরা। 
পরে শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সকালে দুবলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের দেড়শ মিটার দূরে বাগানের ভেতরে শেয়াল কিছু একটা টানাটানি করছে দেখে পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। পরে ওই বাগানের মধ্যে মাটির নিচে পুঁতে রাখা স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। 

নিহত শিক্ষার্থীর ভাই আশিক মাহমুদ অভি বলেন, এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত াক না কেন আমি তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করছি। এই এলঅকার মধ্যে আমাদের কারোর সাথে শত্রুতা নেই। কেন আমরা ভাইকে হত্যা করা হলো। 
নিহতের মা আমবিয়া খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। আমার ছেলেকে কেন তারা হত্যা করলো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। 
নিহত স্কুলছাত্রের মামা ফরহাদ আলম ফিরোজ, শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সকালে দুবলিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সামনে বাগানের ভেতরে শেয়াল কিছু একটা টানাটানি করছে দেখে পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা। পরে ওই বাগানের মধ্যে মাটির নিচে পুঁতে রাখা স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 
খবর পেয়ে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবনে মিজান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর তাকে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিল হত্যাকারীরা। তবে কারা কি কারণে অনিকে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। আশা করছি দ্রুত হত্যার ক্লু উদঘাটন হবে।

আতাইকুলা থানার (ওসি) আরো  জানান, হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে অনি’র দুই সহপাঠিকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম পরিচয় জানানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই