সুজানগরে কবিরাজের গুড় পড়া খেয়ে ইমাম নিহত, সমালোচনার ঝড়
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
বাড়ির মালিকের টাকা হারানোর অপবাদে কবিরাজী গুড় পড়া খেয়ে ভাড়াটিয়া এক ইমামের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে পাবনার সুজানগরে। তবে চিকিৎসকরা বিষয়টি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করেছেন। নিহত ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ওই উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামের ছকিরউদ্দিনের ছেলে। সে সুজানগর পৌর এলাকার ভবানীপুরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মামুনের বাসায় ভাড়া থাকতো এবং স্থানীয় এক মসজিদে ইমামতি করতেন। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুজানগর থানায় এজহার দায়ের করেছেন।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল আলম নিহতের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ৪/৫দিন পূর্বে বাড়ির মালিক মামুনের তিন লক্ষাধিক টাকা খোয়া যায়। এরপর তারা বিভিন্ন লোকজনকে সন্দেহ করার পাশাপাশি বাড়ির ভাড়াটিয়া ওই ইমামকেও সন্দেহের তালিকায় রাখেন। টাকা ফিরে না পাওয়ায় গত শুক্রবার বিকেলে বাড়ির মালিক মামুন একজন কবিরাজকে ডেকে এনে গুড় পড়া খাওয়ায়। এরপর রাতের দিকে ইমাম আব্দুর রাজ্জাকের ডায়রিয়া শুরু হলে পরিবারের লোকজন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে মাঝ রাতে তার অবস্থার উন্নতি হলেও শনিবার সকালে সে মারা য়ায়।
বিষয়টি পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে না আসলে কিভাবে মারা গেছেন, আমরা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছি। রিপোর্ট পেলেই প্রকৃত বিষযটি বুঝা যাবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নিহতরে মামা আমিরুল ইসলাম জানান, মামুন টাকা না পেয়ে সন্দেহ করা ব্যাক্তিদের মানসিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে। শুক্রবার বিকেলে মোট বাড়িতে কবিরাজ এনে মোট ১৩ জনকে গুড় পড়া খাওয়ানো হয়। কবিরাজের ভাষ্যমতে এক ঘন্টার ভেতর রেজাল্ট পাওয়ার কথা, এক ঘন্টায় রেজাল্ট না পেয়ে এদের ভেতর কেউ টাকা নেয়নি বলে কবিরাজ ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাতে আমার ভাগ্নে অসুস্থ হলে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি।
সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক সেলিম মোর্শেদ বলেন, পাতলা পায়খানা ও বমি হওয়ায় রোগিটিকে আমরা চিকিৎসা সেবা দেই। মাঝ রাতে রোগির অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে সে মারা গেছে। ধারনা করা হচ্ছে ইমাম মানুষ বদনাম আর মানসিক চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত হওয়া কষ্টের বলেও জানান তিনি।
নিহতের স্ত্রী দিলরুবা সাথী বলেন, মানসিক নির্যাতনের ফলেই তার স্বামী মারা গেছেন। কান্না জড়িত কন্ঠে তার স্বামীকে মেরে ফেলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচার দাবীও করেন তিনি।
বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন গুড় পড়া অনেকেই খেয়েছেন, তাদের কিছু হলো না। তবে তিনি ওই কবিরাজের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নং কিছুই দিতে রাজী হয়নি এবং সংবাদ না করার জন্যে অসুদোপায় অবলম্বনের চেষ্টা করেন।

কোন মন্তব্য নেই