পাবিপ্রবির ভিসির বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে প্রার্থীকে নিয়োগ না দেয়ার অভিযোগ
পাবনা প্রতিনিধি
নিয়োগ প্রার্থী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ নিয়োগ প্রার্থী মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পাবিপ্রবির ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে, সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করেন মনিরুল। চলতি বছরের জুন মাসে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করলে পরিচিত এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে উপাচার্যের সাথে যোগাযোগ হয় তার। সে সময় দু’দফা সাক্ষাতের পর উপাচার্য শিক্ষক হিসেবে মনিরুলকে নিয়োগ দিতে ১২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগেই জমি বিক্রি করে উপাচার্যকে ঢাকার ফার্মগেটে পাবিপ্রবির রেস্ট হাউজে গিয়ে দু’দফায় প্রথমে পাঁচ ও পরে তিন মিলে আট লাখ টাকা দেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের আগের দিনেও মুঠোফোনে নিয়োগের আশ^াস দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন ভিসি।
মনিরুল অভিযোগ করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েই পূর্ব নির্ধারিত কয়েকজন প্রার্থীর পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তি ও গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয়। পরে ফলাফল তালিকাতেও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়। এসময় ভিসি স্যারকে ফোন দিয়ে আমাকে নিয়োগ না দেয়ায় তাকে দেয়া টাকা ফেরত চাইলে স্যার ডিজিএফআই ও র্যাব দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে শায়েস্তা করার হুমকি দেন।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়েল প্রভাষক আইরিন আক্তার অভিযোগ করেন, আমরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাস করা ১০ জন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই উত্তীর্ণ হতে পারিনি। যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের। নিয়োগ বোর্ডে থাকা শিক্ষকরা সবাই রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষিত শরিফুল ইসলাম পাবিপ্রবির প্রোভিসি আনোয়ারুল ইসলাম স্যারের আপন ভাগ্নে জামাই হলেও তিনি নীতিমালা ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে নিয়োগ বোর্ডে থেকে তাকে পাস করান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরীক্ষায় অংশ নেয়া একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন, পাবিপ্রবির ভিসি রোস্তম আলী, প্রোভিসি আনোয়ারুল ইসলাম, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম নির্দিষ্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে চুক্তি করেন। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের নিজেদের ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড সাজিয়ে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখান। কিন্তু তাদের অপকর্মের কথা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, বেকাদায় পড়ে মৌখিক পরীক্ষায় কেউ উত্তীর্ণ হয়নি বলে ঘটনা আপাতত ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাবিবুল্লাহ বলেন, নিয়োগ বোর্ড নীতিমালা মেনেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। লিখিত পরীক্ষায় ফলাফলে ছয়জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হলেও মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ড সন্তুষ্ট না হওয়ায় কাউকেই চুড়ান্ত উত্তীর্ণ ঘোষণা করে নি।
অভিযোগের বিষয়ে পাবিপ্রবি উপ উপাচার্য ড. আনোয়ারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
তবে ঘুষ গ্রহণ ও নিয়োগ পরীক্ষায় অস্বচ্ছতার সকল অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবী করে পাবিপ্রবি উপাচার্য ড. রোস্তম আলী বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল করে কতিপয় প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। মনিরুলের সাথে নিয়োগ পরীক্ষার আগে একাধিক বার মুঠোফোনে কথাপোকথন ও সাক্ষাতের কথা স্বীকার করলেও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন । নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থীর সাথে বার বার কেন দেখা করেছেন জানতে চাইলে ভিসি বলেন, মনিরুল আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশ জানাতে আমার সাথে দেখা করেছিল।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ঘুষ নিয়েও এক পরীক্ষার্থীকে নিয়োগ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপাচার্য এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে ভুক্তভোগী প্রার্থী নিজের নাম না দেখে উপাচার্যের কাছে মুঠোফোনে কারণ জানতে চাইলে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে তাকে ডিজিএফআই ও র্যাব দিয়ে ঐ প্রার্থীকে গ্রেফতার করানোর হুমকি দেন। বৃহঃস্পতিবার বিকেলে ভিসির সাথে নিয়োগ প্রার্থীর কথাপোকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত পরবর্তীতে আবারও ফোন দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় কোন প্রার্থীই উর্ত্তীণ হয়নি বলে জানান ভিসি। এ সময় ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলেও দাবী করেন উপাচার্য এম রোস্তম আলী।
পাবিপ্রবি সূত্র জানায়, ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে আহবান করা বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ২৪ অক্টোবর সকালে বিশ^বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাস করা ২৮ জন নিয়োগ প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষা শেষে শিবু চন্দ্র অধিকারী, শরিফুল ইসলাম, তানভীর আহমেদ, রাজীবুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন, ও নুরুল হামিদ নামের ছয়জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ করা হয়।নিয়োগ প্রার্থী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ নিয়োগ প্রার্থী মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পাবিপ্রবির ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে, সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করেন মনিরুল। চলতি বছরের জুন মাসে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করলে পরিচিত এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে উপাচার্যের সাথে যোগাযোগ হয় তার। সে সময় দু’দফা সাক্ষাতের পর উপাচার্য শিক্ষক হিসেবে মনিরুলকে নিয়োগ দিতে ১২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগেই জমি বিক্রি করে উপাচার্যকে ঢাকার ফার্মগেটে পাবিপ্রবির রেস্ট হাউজে গিয়ে দু’দফায় প্রথমে পাঁচ ও পরে তিন মিলে আট লাখ টাকা দেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের আগের দিনেও মুঠোফোনে নিয়োগের আশ^াস দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন ভিসি।
মনিরুল অভিযোগ করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েই পূর্ব নির্ধারিত কয়েকজন প্রার্থীর পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তি ও গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয়। পরে ফলাফল তালিকাতেও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়। এসময় ভিসি স্যারকে ফোন দিয়ে আমাকে নিয়োগ না দেয়ায় তাকে দেয়া টাকা ফেরত চাইলে স্যার ডিজিএফআই ও র্যাব দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করে শায়েস্তা করার হুমকি দেন।
নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়েল প্রভাষক আইরিন আক্তার অভিযোগ করেন, আমরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাস করা ১০ জন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই উত্তীর্ণ হতে পারিনি। যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের। নিয়োগ বোর্ডে থাকা শিক্ষকরা সবাই রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষিত শরিফুল ইসলাম পাবিপ্রবির প্রোভিসি আনোয়ারুল ইসলাম স্যারের আপন ভাগ্নে জামাই হলেও তিনি নীতিমালা ও নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে নিয়োগ বোর্ডে থেকে তাকে পাস করান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরীক্ষায় অংশ নেয়া একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন, পাবিপ্রবির ভিসি রোস্তম আলী, প্রোভিসি আনোয়ারুল ইসলাম, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম নির্দিষ্ট প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে চুক্তি করেন। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের নিজেদের ঘনিষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড সাজিয়ে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখান। কিন্তু তাদের অপকর্মের কথা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, বেকাদায় পড়ে মৌখিক পরীক্ষায় কেউ উত্তীর্ণ হয়নি বলে ঘটনা আপাতত ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাবিবুল্লাহ বলেন, নিয়োগ বোর্ড নীতিমালা মেনেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। লিখিত পরীক্ষায় ফলাফলে ছয়জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হলেও মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ড সন্তুষ্ট না হওয়ায় কাউকেই চুড়ান্ত উত্তীর্ণ ঘোষণা করে নি।
অভিযোগের বিষয়ে পাবিপ্রবি উপ উপাচার্য ড. আনোয়ারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
তবে ঘুষ গ্রহণ ও নিয়োগ পরীক্ষায় অস্বচ্ছতার সকল অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবী করে পাবিপ্রবি উপাচার্য ড. রোস্তম আলী বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল করে কতিপয় প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। মনিরুলের সাথে নিয়োগ পরীক্ষার আগে একাধিক বার মুঠোফোনে কথাপোকথন ও সাক্ষাতের কথা স্বীকার করলেও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন । নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থীর সাথে বার বার কেন দেখা করেছেন জানতে চাইলে ভিসি বলেন, মনিরুল আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশ জানাতে আমার সাথে দেখা করেছিল।

কোন মন্তব্য নেই