Pabna



পাবনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মানুষের ঢল থামাছে না

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:  
দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে ঝাকে ঝাকে লোকজন পাবনায় আসছে। কেউ কারোর তোয়াক্কা না করে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংষ্পর্শে থাকা এসব লোকজন পাবনা শহরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাটে বাজারে ঘুরে বেড়লেও প্রশাসনের নজরদারী নেই বলে দাবী সচতেনবাসীর। পাবনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে এই সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত মানুষ দেখলেই সচেতন গ্রামবাসীরে মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। 

নারায়ণগঞ্জ থেকে যারা গ্রামে আসছেন তারা বেশিরভাগই গার্মেন্টস কর্মী। গ্রামে এসেই তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো চলাফেরা করছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের লোকজন প্রচন্ড স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসের সাতজন কর্মী পাবনার ফরিদপুরে এসেছে। তারা সবাই উপজেলার পুঙ্গলি ইউনিয়নের পাছপুঙ্গলি গ্রামের বাসিন্দা। এ নিয়ে চরম আতংকে আছেন ওই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দারা। ওই গার্মেন্টস কর্মীদের আগমনের বিষয়ে গ্রামের সচেতন ব্যক্তিরা উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছে। উল্লেখ্য, পাবনার একমাত্র করোনা আক্রান্ত যুবক নারায়ণগঞ্জ ফেরত বলেও জানাে গেছে। 
গ্রামবাসী জানায়, পাছপুঙ্গলি গ্রামের ওইসব লোকজন দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। এদের প্রত্যেকেরই বয়স ৩০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। সকলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে। করোনা ভাইরাসের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোক ওই গ্রামে ফিরে এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহনের চড়ে এসব গার্মেন্টস কর্মীরা সন্তানাদি নিয়ে গ্রামে চলে আসে। গ্রামটি অত্যন্ত ঘনবসতি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ ফেরত এসব মানুষ গ্রামে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে আতংক। তবে গ্রামের ব্যক্তিবর্গ ওইসব পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু এই গ্রামই নয় পাবনার অধিকাংশ এলাকায়-ই এমন গ্রাম আছে যে গ্রামে ৪/৫ জন কর্মজীবী লোক নরায়ণগঞ্জ থেকে এসেছে।  

পাছপুঙ্গলি গ্রামের শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, গ্রামের মানুষ এমনিতেই খুব অসচেতন। প্রশাসন প্রায়ই অভিযান চালিয়েও স্থানীয় বাজারের জনসমাগম বন্ধ করতে পারছে না। বিকাল হলেই স্কুলের মাঠে লোকজনের ভিড় করে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে অনেক ব্যবসায়ীর দোকান খোলে। এর উপর নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কর্মীরা গ্রামে এসে সবাইকে আতংকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

তবে প্রশাসনের একটি সুত্র নাম প্রকাশ না কার শর্তে বলেন, পাবনায় অন্তত তিন শত লোক নারায়ণগঞ্জ থেকে পাবনায় এসেছে গত এক সাপ্তাহে। এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরী বলেও তিনি জানান। 
পাছপুঙ্গলি গ্রামের ইউপি সদস্য রেজা আহমেদ জানান, রাতের আঁধারে পালিয়ে আসা গার্মেন্টসকর্মীদের পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা নির্দেশ দিয়েছি, নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে, যদি কেউ অমান্য করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো বলেও জানান তিনি। 

কোন মন্তব্য নেই