Pabna



সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রবিবার খুলছে পাবিপ্রবি, নেপথ্যে রহস্য

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে আগামীকাল (৩১ মে ) থেকে বিশ্বিববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপত্তি উপেক্ষা করে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলীর নির্দেশে বিশ্বিববিদ্যালয় অতিরিক্ত রেজিস্টার বিজয় কুমার ব্রহ্ম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জুন ফাইনাল সামনে রেখে বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধশত কোটি টাকা খরচ দেখাতেই তড়িঘড়ি করে বিশ্বিববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করছেন কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বিববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সূত্রে জানা যায়,  দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ বিশ্বিববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সকল সরকারী ও বেসরকারী  বিশ্বিববিদ্যালয়ের ও ডিসট্যান্স ক্লাস ছাড়া যাবতীয় কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।  গত ২৮ মে, বৃহস্পতিবার ইউজিসি  স্মারক নং-ইউজিসি/প্রশাসন/৪(৪)/৭৩/১১-১/২২২৭, প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ  বিশ্বিববিদ্যালয়ের ১৫ জুন পর্যন্ত সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিলেও একই দিন বিশ্বিববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে বিশ্বিববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে অবিবেচনাপ্রসূত উল্লেখ করে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বিববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। পাবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবানুনাশক টানেল কিংবা স্বাস্থ্যবিধির কোন প্রস্তুতি না নিয়েই হঠাৎ করেই রবিবার থেকে বিশ্বিববিদ্যালয়ের অফিস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে প্রশাসন। আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্য মহোদয়কে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু, তিনি তা মানছেন না। এমন সিদ্ধান্তে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধে হাজী দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় , ময়মনসিংহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়সহ  প্রায় সকল বিশ^বিদ্যালয় ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫ জুন পর্যন্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পাবিপ্রবিতে কি এমন বিশেষ প্রয়োজন তা খতিয়ে দেখলে বিশ^বিদ্যালয় খুলতে প্রশাসনের একগুঁয়েমির কারণ জানা যাবে। 

তিনি আরো বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৬০ কোটি টাকা চলতি অর্থ বছরে ছাড় হয়েছে। যার মাত্র পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। জুন ফাইনালের মধ্যে বাকি টাকা বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে খরচ করতেই সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে বিশ^বিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। 
এ ব্যাপারে বিশ^বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রার বিজন কুমার জানান, ভিসি স্যারের নির্দেশে তিনি বিশ^বিদ্যালয় খোলার নোটিশ করেছেন বলে জানান। ইউজিসির সিদ্ধান্ত অমান্য হয়েছে কিনা তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

পাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক রোস্তম আলী জানান, বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনাটি সঠিক নয়। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ও সীমিত পরিসরে খুলছে। জরুরী কিছু প্রশাসনিক কাজ থাকায় অফিস খোলা হচ্ছে।  উন্নয়ন প্রকল্পের অব্যবহৃত ৬০ কোটি টাকা খরচ করতেই বিশ^বিদ্যালয় খুলছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এত টাকা তো বরাদ্দই হয়নি বলে এড়িয়ে যান।

প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে,  বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব ড.ফেরদৌস জামানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রী পরিষদ সচিব বিভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে । আমরা শুধুমাত্র তা বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে জানিয়েছি। নির্দেশনা না মেনে পাবিপ্রবি খোলা হলে তা সেটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে অবজ্ঞা ও অমান্য করার শামিল। এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার পাবিপ্রবি প্রশাসনের নেই।


কোন মন্তব্য নেই