Pabna



প্রচারণা শুরুর পর থেকে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১২ বার হামলা করেছে-অধ্যাপক আবু সাইয়িদ

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
নির্বাচনের আচারবিধি লংঘন ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে সাধারন মানুষ নির্যাতন, হামলা-মামলা ও প্রচার প্রচারণায় বাধা প্রদানের অভিযোগ করেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। নকল পুলিশ সন্ত্রাসীদের সাথে কাজ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। গতকাল রবিবার দুপুরে পাবনার বেড়াস্থ নিজ বাসভবনে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে অধ্যাধিক গুরুত্বাপূর্ন সমীকরন দারিয়েছে পাবনা-১ আসনে। জামাত অধ্যুশিত এলাকা হিসাবে পরিচিত বেড়া-সাথিয়া আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আরো বলেন, আমি ক্ষমতা লোভী মানুষ নন,  ক্ষমতার উচ্চ শিখরে ছিলাম নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু  আমাকে দিয়ে রাজনীতি করিয়েছেন। এলাকার সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের জন্য আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছি। প্রতীক আমার কাছে এখন ফ্যাক্টর না। এই নির্বাচন গনতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন। 
সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ২০ শতাংশ ভোটও পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থী স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নকল পুলিশ সাজিয়ে নির্বাচন করছেন। আমাকে নির্বাচনী মাঠে করতে দেয়া হচ্ছে না। প্রচার প্রচারণা শুরুর পর থেকে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১২ বার হামলা করা হয়েছে। হামলার বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সকল প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোন সমাধান হয় নি। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনে আমার উপর হামলা চালালেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। বাধা দেওয়া বা লাঠিচার্জ তো দূরের কথা তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন, কিন্তু কেন? আমি ভীতু নই, সাহস নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছি। সাহস নিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করেছি। এবারেও হামলা মামলা বা অস্ত্রবাজি করে আমাকে মাঠ থেকে সরানো যাবে না।  
আমিসহ আমার নেতাকর্মীদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে তাতে আমি ভীতু নয়, যারা আমার জন্যে কাজ করছে তাদের মামলা দিয়ে হামলা করে বাড়ি থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচনী আইন ও নিয়ম নীতির মধ্যে থেকে নির্বাচন পরিচালনার জন্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। জনগণ সুষ্ঠু অবাদ নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের জন্যে অপেক্ষা করছেন। সুযোগ পেলেই সমুচিত জবাব দিয়ে দিবে ব্যালটের মাধ্যমে। 
প্রসঙ্গত, সংবিধান প্রণেতা কমিটির অন্যতম সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে গভর্নর, ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরে আওয়ামলীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ সালে জামায়াতের আমীল মাও: মতিউর রহমান নিজামীর নিকট পরাজিত হয়। ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থি হওয়ায় ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন। পরে ২০১৩ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ব্যাপক কারচুপির কারনে শামসুল হক টুকুর নিকট পরাজিত হন। এবারে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হলে তিনি গনফোরামে যোগ দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন। 

কোন মন্তব্য নেই