Pabna



চাটমোহরে গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে গ্রামবাসীর পাহারা

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনার চাটমোহর উপজেলার সর্বত্র গত একমাস যাবৎ গরু চুরির ঘটনা ব্যাপক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় চুরি রোধে গ্রামের লোকেরা রাত জেগে দলবদ্ধ ভাবে পাহারা দিচ্ছে। গত একমাসে এই উপজেলায় অন্তত ১৫টি গরু ও তিনটি মহিষ চুরির ঘটনা ঘটায় খামারী ও গ্রামের গৃহস্থালি মানুষের মাঝে বিরাজ করছে আতংক। এতোগুলো গরু ও মহিষ চুরির পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি গরু উদ্ধার কিংবা চোর শনাক্ত করতে না পারায় গ্রামের সাধারন মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা।

সরেজমিন সম্প্রতি রাতে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একদল মানুষ লাঠি হাতে মুখে বাঁশি নিয়ে হইহই করে পাহারা দিচ্ছে। মাঘের তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে নিজেদের সম্পদ গরু চুরি রোধে তাদের এই রাত জাগা। এ সময় উপস্থিত অনেকে জানান, তাদের অনেকেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ করে গরু পালন করছেন। তাদের এই সম্পদ যদি চুরি হয়ে যায় তাহলে তাদের রাস্তায় বসতে হবে। অনেকে বাণিজ্যিক ভাবে গরুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মূলত তারাই নিজেদের প্রয়োজনে সম্পদগুলো না হারাতে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন।

উপজেলা ব্যাপী গরু চুরির ঘটনা গত এক সপ্তাহে এতোটাই ভয়াবহ আকার ধারন করেছে যে এই গরু চোর ধরতে গিয়ে উপজেলার রামনগর ঘাটে রব্বান আলি (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। নিহত রব্বানকে চোরেরা তাদের কাভার্ড ভ্যানের নিচে চাপা দিয়ে নিহত করে পালিয়ে যায়। গত শনিবার মূলগ্রাম ইউনিয়নের মহরমখালী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ৩টি গরু চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। এর আগে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রাম থেকে বেশ কয়েকটি গরু ও ভাদ্রা গ্রাম থেকে ৩টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ফৈলজানা ইউনিয়নের মেঘারপাড়া গ্রাম থেকে এক ব্যক্তির ২টি মহিষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির বিষয়ে বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্থরা থানা পুলিশকে অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত চুরি প্রতিরোধে কিংবা চোর ধরতে পুলিশের সাফল্য শুন্যের কোঠায় বলা যায়।

উপজেলার বালুদিয়ার গ্রামের পাহারা দাতা যুবক বাবুল আক্তার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের গ্রামের আশে পাশে ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে গরু চুরি হচ্ছে তাতে করে আমাদের গ্রামের যাদের গরু আছে সবাই আমরা আতংকিত। তাই আমরা বাধ্য হয়ে গ্রামের সবাই এক হয়ে প্রতি রাতে পালা করে সারা রাত গ্রামে পাহারা দিচ্ছি। প্রতি রাতে ৩২ জনের দল আট জন করে চার ভাগে ভাগ হয়ে গ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিয়ে পাহারা দিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) এস এ এম ফজল-ই-খুদা বলেন, গত এক সপ্তাহে এই চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের টহল আগের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। চাটমোহর উপজেলা বড় এড়িয়া হওয়ায় একসাথে সকল এলাকায় পুলিশের টহল দেয়া সম্ভব হয়না। পুলিশের পাশাপাশি গ্রামের মানুষেরা এই চুরি প্রতিরোধে যদি এগিয়ে আসে অবশ্যই পরবর্তীতে আর চুরির ঘটনা ঘটবে না। পুলিশ এই চোর চক্রকে ধরতে তৎপর আছে। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা এই চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হবো।

কোন মন্তব্য নেই