Pabna



ঈশ্বরদীতে শিল্প-বণিক সমিতি ও ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি “প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন”

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
গত ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী বাজারে অব্যাহতভাবে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ করেছেন বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। চাঁদা না দেওয়ায় তাপস কুমার সাহা নামের এক মিষ্টি ব্যবসায়ীকে তার দোকানে গিয়ে ৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে লাঞ্ছিত করে প্রাণনাশের হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঈশ্বরদী বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরাও। চাঁদাবাজি ও হুমকির প্রতিবাদে পরদিন বুধবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে সাধারণ ব্যাবসায়ী ও হিন্দু সম্প্রদায়। নিউজটি ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এরপর গত বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে ঈশ্বরদী থেকে প্রকাশিত চেতনায় ঈশ্বরদী পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। এই সংবাদ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে সন্ধ্যা ৭টায় বণিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে শিল্প ও বণিক সমিতি।
শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি ইউনুস আলী মিন্টু লিখিত বক্তব্যে বলেন, চেতনায় ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। একটি কুচক্রি মহল শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতির কর্মদক্ষতা, সততা ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কল্পনাপ্রসূতভাবে মিথ্যা অভিযোগ এনে ফলাওভাবে এই মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছেন।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে তাপস সাহা (ঈশ্বরদী বাজারের পাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী) বাজারের প্রধান গলিতে রাস্তারউপর দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে আগুনের চুলা জ্বালিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি আসছে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে ৮ জানুয়ারি রাত ৯টায় তাপস সাহাকে চুলা অপসারণের জন্য বলেন। কিন্তু তাপস অনাকাঙ্খিতভাবে চতুরতার আশ্রয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত বণিক সমিতির সুনাম নষ্ট করা ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
গত ৯ জানুয়ারি ঈশ্বরদী বাজারের ১নং গেটের সামনে তথাকথিত মানববন্ধনের নামে গুটিকয়েক মানুষকে নিয়ে বিভ্রান্তমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। যেখানে কোন সাধারণ ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণ ছিল না। অথচ পত্রিকায় ফুসে উঠেছে ব্যবসায়ীরা লেখা হয়েছে, যা নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ভবন নির্মাণ।  সেই ভবনের জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিকবার সভা করা হয়েছে।  ব্যবসায়ীরা ভবন নির্মানের জন্য স্বতঃস্ফর্তভাবে তাদের সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন।  তাদের সহযোগিতাতেই ভবন নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। ভবন নির্মানের কাজে বিঘ্ন ঘটনার জন্য ব্যবসায়ীদের অনুদান বা সহযোগিতাকে তাপস গংরা চাঁদাবাজি বলে অপপ্রচারের চেষ্টা করে বণিক সমিতির উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নবীন ফ্যাশানের স্বত্বাধিকারী রবিউন নবী বলেন, সংবাদে লেখা হয়েছে আমার কাছে থেকে ১০ হাজার টাকা শফিকুল ইসলাম বাচ্চু চাঁদা নিয়েছে।  যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।  আমি কোন সাংবাদিকের কাছে এ ধরনের কথা বলিনি।  প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে বণিক সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমি অনুদান হিসেবে একটি গ্লাসের দরজা দিতে চেয়েছি।  এটা চাঁদাবাজির মধ্যে পড়ে না।  আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে যা যৎ সামান্য সহযোগিতা।  পত্রিকায় এই মিথ্যাচারের আমি নিন্দা জানাচ্ছি
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে প্রায় ৪০ বছর ধরে ঈশ্বরদী বাজারে ব্যবসা করে আসছি।  ২৪ বছর ধরে বণিক সমিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছি।  কেউ বলতে পারবে না সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছি।  ব্যবসায়ীদের দাবি ও অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনােএড়াতে  বাজারের প্রধান ফটকের গলিতে তাপস সাহর আগুনের  ‍চুলা অপসারন করতে বলেছি।  কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তাপস সাহ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট করার জন্য গুটি কয়েক ব্যক্তি নিয়ে কথিত মানববন্ধন করেছেন।  আমি তাপসের সঙ্গে টাকা পয়সার বিষয় নিয়ে কোন কথা হয়নি।  অথচ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে তাপস আমার ও বণিক সমিতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে।  তিনি প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে  বলেন, চেতনায় ঈশ্বরদীতে যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা নিন্দনীয়, প্রতিহিংসামূলক ও দুঃখজনক।  সংবাদে একাংশে আমার বক্তব্য দেয়া হয়েছে এটাও মিথ্যা।  আমার কাছে ওই পত্রিকার কোন প্রতিনিধি বক্তব্য নেননি বা ওই পত্রিকার কারো সঙ্গে কোন কথা হয়নি।
এরপর গত শনিবার (১২ জানুয়ারি) শ্বরদী বাজারে শিল্প ও বণিক সমিতি অফিসের নামে শিল্প বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চুর চাঁদাবাজি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ঈশ্বরদী বাজারের ব্যাবসায়ীরা।
শনিবার সকালে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী বাজারের পাল মিস্টান্ন ভান্ডারের মালিক ব্যবসায়ী তাপস কুমার সাহা।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, শিল্প বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু গত ৯ জানুয়ারী আমার দোকানে এসে আমার নিকট ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন, আমি দিতে অস্বিকার করলে তিনি অকথ্য ভাষায় হিন্দু সম্প্রদায় ও জাতী তুলে গালাগালি করে দোকান ভাংচুর করার হুমকি দিয়ে চলে যান। এর আগে চাঁদাবাজি ও হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে সাধারণ ব্যাবসায়ী ও হিন্দু সম্প্রদায়। এসময় ঈশ্বরদী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনিল চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক মিলন কর্মকার, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চক্রবর্তী, জাতীয় আদীবাসী পরিষদের সভাপতি মদন দাস, পূজা উদযাপন পরিষদের পৌর শাখার সভাপতি বাবু পান্ডে, বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য যুব পরিষদের সভাপতি তাপস কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক অনন্ত কর্মকার, হিন্দু মহাজোটের ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি উত্তম কুমার সাহা, আদীবাসী ছাত্র পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মিঠুন রবি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অফিস করার নামে প্রায়ই শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বাজারের ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট নিজে গিয়ে চাঁদাবাজি করেন। গত মঙ্গলবার রাতে বাজারের পাল মিস্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে মালিক তাপস কুমার সাহার নিকট একই কথা বলে চাঁদা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকার করেন। এসময় তাকে বুধবার সকালের মধ্যে চাঁদা পৌঁছে না দিলে দোকান ভাংচুর ও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তাপস।

কোন মন্তব্য নেই