Pabna



যে কারনে প্রিন্সের মন্ত্রীত্ব দাবী পাবনাবাসীর

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
একাদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা সদর-৫ (সদর) আসনে তৃতীয়বারের বিজয়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্সকে এবার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসাবে দেখতে চান পাবনাবাসী। স্বাধীনতার পর থেকে পাবনা সদর আসনে ছয়বার নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও মন্ত্রীত্ব জোটেনি কারো ভাগ্যেই। হ্যাট্রিক বিজয়ে অনেক প্রাপ্তির সাথে মন্ত্রীত্বের সোনার হরিণের দেখা মিলবে এমন প্রত্যাশা করছেন শহরবাসী। জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাবনা সদর-৫ আসনে যুদ্ধাপরাধের দল জামায়াতকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে হ্যাট্রিক জয় হয়েছে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী গোলাম ফারুক প্রিন্সের। আর একারনেই গোলাম ফারুক প্রিন্সকে মন্ত্রীত্বের সম্মানে দেখতে চান পাবনাবাসী। 
পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বলেছি, এই পাবনা বঙ্গবন্ধুর পাবনা, এই পাবনা শহীদ এম মনসুর আলীর পাবনা। এই পাবনা গোলাম ফারুক প্রিন্সের পাবনা। গোলাম ফারুক প্রিন্সের মন্ত্র্রীত্ব দেয়া পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি। তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে পাবনা-৫ (সদর) আসনে তৎকালীন চারদলীয় জোটের হেভীওয়েট প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমীর যুদ্ধাপরাধী মাওলানা আব্দুস সুবহানকে আওয়ামীলীগের  তরুণ প্রার্থী গোলাম ফারুক প্রিন্স ২০ হাজারেরও বেশী ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালে নৌকার ধারাবাহিক বিজয়ে হয়েছে। গত দশ বছরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেলপথ, বিশ^বিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি পাবনায় ছিল না রাজনৈতিক হানাহানিও। উন্নয়ন ও শান্তির এই রাজনীতির প্রতিদানে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকে জামায়াতের প্রার্থী  মাও: ইকবাল হোসাইনের এবার জামানতের টাকাও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিন লাখেরও বেশী ভোটে হ্যাট্রিক বিজয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গোলাম ফারুক প্রিন্সের মন্ত্রীত্ব তাই সময়ের দাবী।
পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম বলেন, ১৯৯১ সালে পাবনা সদর আসন থেকে নির্বাচিত হন যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সুবহান। ১৯৯৬ এ বিএনপি, ২০০১ আবারও চারদলীয় জোটের ব্যানারে যুদ্ধাপরাধী সুবহান জয়লাভ করেন। বারবার নির্বাচিত হয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দখল নেন জামায়াত নেতারা। সারাদেশে পাবনা সদর আসন পরিচিতি পায় জামায়াতের এলাকা হিসেবে। তবে, ২০০৮ সালে জামায়াতের প্রার্থীর বিপরীতে জয় পায় ঐক্যবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা তিনবারের জয়ে যুদ্ধাপরাধীকে বিজয়ী করার অতীত কলঙ্ক অনেকটাই ঘুচেছে বলে মনে করছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। 
পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সহ সভাপতি আলী মর্তুজা বিশ^াস সনি বলেন, পাবনা সদর আসনে গত দশ বছরে ব্যপক উন্নয়নের পাশাপাশি ,রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। বেড়েছে বিনিয়োগ, সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান। পাশাপাশি, সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের ব্যাক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে পাবনাকে একটি আধুনিক নগরের রূপ দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদর আসনে মন্ত্রী উপহার দেবেন বলেই আমাদের বিশ^াস।
উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা সদর আসনে আওয়ামীলীগের গোলাম ফারুক প্রিন্স পেয়েছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৩৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী মাওলানা ইকবাল হোসাইন পেয়েছেন ২০ হাজার ৬৫৪ ভোট।

কোন মন্তব্য নেই