মেঘনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় ভাঙ্গুড়ার নিখোঁজ ১৮ শ্রমিকের সন্ধান ৫দিনেও মেলেনি
বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
মুন্সীগঞ্জের চরঝাঁপটার মেঘনা নদীতে তেলবাহী জাহাজের ধাক্কায় মাটিভর্তি ট্রলার ডুবিতে পাবনার খানমরিচ ইউনিয়নের নিখোঁজ ১৮ শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি পাঁচদিনেও। তাদের সন্ধানে আজ শনিবার (১৯ জানুয়ারি) ৫ম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। নদী জুড়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা জাহাজ দিয়ে রশি বেঁধ র্যাকি টেনে খোঁজ করছে নদীর তলদেশ। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, নৌযান শনাক্তকারী বিশেষ জাহাজ অগ্নি শাসকও রয়েছে উদ্ধার অভিযানে।
ট্রলারচালকের অনুপস্থিতি এবং ঘাতক তেলবাহী জাহাজটিকে শনাক্ত করা না যাওয়ায় ট্রলার ডুবির নির্দিষ্ট অবস্থানও নিশ্চিত করতে পারছে না উদ্ধারকারীরা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ট্রলারে মাটি তুলে ৩৪ জন শ্রমিক নারায়ণগঞ্জের ফততুল্লার বক্তাবলী নিয়ে যাচ্ছিল। ট্রলারটি সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জের চরঝাঁপটার মেঘনা নদীতে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে চাঁদপুরের দিকে চলে যায়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে প্রাণে বাঁচাতে পারলেও ট্রলারটির কেবিনের ভেতরে ঘুমন্ত ২০ শ্রমিকের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের ১৮ জনের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে।
ঘটনা সোমবার দিবাগত রাতের হলেও ট্রলার ডুবির ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে বুধবার।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদিক জানান, ৫ম দিনের মতো শনিবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌবাহিনীর এক্সপার্ট টিম পুরো মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরো জানান, নির্দিষ্ট স্থান না জানার কারনে পুরো মেঘনা নদী চষে বেড়ানো সম্ভব নয়। তারপর দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খোঁজা হয়েছে। কিন্তু কোনো সন্ধান মেলেনি। এর জন্য ট্রলারচালককে আটক বা ঘটনাস্থলে উপস্থিতি দরকার।
এই ঘটনার পর থেকে শরীয়তপুরের শিবচর উপজেলার হালদারকান্দি গ্রামের মৃত করিম বেপারীর ছেলে ট্রলারের চালক হাবিব বেপারী দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
এদিকে নিখোজ পরিবারে স্বজনদের আহাজারী থামছে না। তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা ওই ১৮টি পরিবারের লোকজন।



কোন মন্তব্য নেই