পাবিপ্রবিতে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীতে বেশির ভাগ শিক্ষক-কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় ভৎসনা
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ অনুষদের ডীন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অধিকাংশ দপ্তর প্রধান অনুপস্থিত থাকায় জরুরী সভা করে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় উপাচার্য দপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগের দিন সবাইকে ফোনে উপস্থিত থাকার জন্যে নির্দেশ দিলেও অনুপস্থিতির ঘটনাকে ‘বঙ্গবন্ধু’কে অবহেলা বলে ভারপ্রাপ্ত ভিসি অভিযোগ করেছেন। এদিকে শোকের মাসে ভিসির বিদেশে অবস্থান করায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পাবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও ইউজিসির নির্দেশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্যে কর্মসূচী গ্রহন করে। কর্মসূচীতে সকল শিক্ষক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার জন্যে নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গত ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদের ডীনদের মধ্যে ২ জন উপস্থিত থাকলেও ৩ জন অনুপস্থিত থাকেন। তারা হলেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. হারুনর রশিদ, ব্যবসায় অনুষদের ডীন ড. মুশফিকুর রহমান, জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. খায়রুল আলম।
অপরদিকে ২১টি বিভাগের মধ্যে ১৩টি বিভাগের চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দীপংকর কুন্ডু, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর রকিবুল হাসান, আর্কিটেকচার বিভাগের অদিতি বিশ্বাস, গণিত বিভাগের ড. হারুন অর রশিদ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সোহেল রানা, ফার্মেসি বিভাগের আশীষ কুমার সরকার, রসায়ন বিভাগের হুমায়ুন কবির, পরিসংখ্যান বিভাগের ড. সাব্বা রুহী, অর্থনীতি বিভাগের মোঃ আল আমিন, সমাজকর্ম বিভাগের জাহিদুল ইসলাম, ই্ংরেজি বিভাগের রাশেদ মাহমুদ, লোক প্রশাসন বিভাগের বুলবুল আহমেদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের হুমায়রা আঞ্জুম।
এদিকে কর্মকর্তাদের মধ্যে অর্থ ও হিসাব বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহান শাহ, সেন্ট্রাল ষ্টোরের প্রধান রফিকুল ইসলাম, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক জি এম আজিজুর রহমান, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রধান রেজাউল হক, আইসিটি সেলের পরিচালক আনোয়ার হোসেন, আইকিউএসি পরিচালক ড. নাজমুল ইসলাম, লাইব্রেরী প্রধান হাফিজুর রহমান, ডরমিটরীর প্রশাসক গালিব হাসান, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হলের প্রভোষ্ট সাইফুল ইসলাম, শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের প্রভোষ্ট হুমায়রা আঞ্জুম।
এদিকে বিশ্ববিদালয়ের মাত্র দুইজন অধ্যাপক ড. মুশফিকুর রহমান ও ড. মীর খালেদ ইকবাল চৌধূরীও কর্মসূচীতে অনুপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচীতে বেশির ভাগ ডীন, চেয়ারম্যান, সিনিয়র শিক্ষক ও দপ্তর প্রধানরা অনুপস্থিত থাকায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শিক্ষক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসে বিষয়টি নিয়ে শনিবার তীব্র সমালোচনা হয়েছে। ক্ষোভের কারনে ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. আনোয়ারুল ইসলাম শনিবার সকাল ১১টায় ভিসির দপ্তরে জরুরী সভার আহবান করেন। সেখানেও শোক দিবসের কর্মসূচীতে অনুপস্থিতরা অনেকেই উপস্থিত হননি বলে সভায় উপস্থিত কয়েকজন জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষক বলেন, শোকের মাসে ভাইস চ্যান্সেলর ড. রোস্তম আলী নিজেই বিদেশে গেছেন ছেলের সাথে দেখা করতে। তিনি যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃতই সমর্থক হতেন তাহলে শোকের মাসে ভ্রমনে যেতেন না। তিনি গত ৫ আগষ্ট থেকে ২৭ আগষ্ট জাপানে অবস্থান করছেন।
এ ব্যাপারে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রীতম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি আসলে ঈদের ছুটির পরপরই হওয়ায় মুলত এমন হয়েছে।
এ বিষয়ে পাবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অফিসিয়াল নির্দেশ থাকার পরেও শোক দিবসের কর্মসূচীতে উপস্থিত থাকার জন্যে আগের দিন সকল দাপ্তরিক প্রধানকে টেলিফোন করা হলেও তাদের অনুপস্থিতি প্রমান করে তারা বঙ্গবন্ধুকে অবহেলা করেছেন। আমি মনে করি অনুপস্থিতিরা কেউই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চেতনা ধারন করেন না বলেই আমার কাছে প্রতীয়মান হয়। সভায় তারা অনুপস্থিতির বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করলে তাদেরকে ভৎসনা করে সতর্ক করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই