সাঁথিয়ায় গণপিটুনিতে একাধিক মামলার আসামীসহ নিহত-২ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ডাকাতি করে পালানোর সময় এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে প্রায় ডজন খানেক মামলার আসামীসহ দুই জন নিহত হয়েছে। নিহত শাহীন ওরফে হলকা শাহীন (৪৫) সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে ও মাছিম ওরফে কালু (৩৫) পিতা অজ্ঞাত। পুলিশের দাবী নিহতরা চরমপন্থি সর্বহারা দলের সক্রিয় সদস্য ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছে।
নন্দনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, নিহত শাহীন একজন চিহ্নিত চরমপন্থি সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। প্রায় প্রতি রাতেই শাহীনসহ তার সহযোগীরা গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন বাড়ি থেকে জোরপূর্বক স্বর্ণলংকারসহ দামী দামী জিনিস পত্র ছিনিয়ে নিতো নারীদের উপর চালাত পাশবিক নির্যাতন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে শাহীন তার তিন সহযোগীকে সাথে করে উপজেলার ছোন্দহ ক্যানেলপাড়া গ্রামের সিদ্দিক করাতির বাড়ি থেকে ডাকাতি করে পালাচ্ছিল। এসময় তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাদের ঘিরে ফেলে। ডাকাতরা ক্যানেলের পানিতে ঝাঁপ দেয়। পরে কচুরিপানার মধ্য থেকে দুইজনকে ধরে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহীন ও মাছিম কে উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্স জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহত শাহীনের বিরুদ্ধে সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, খুন, বিস্ফোরক আইনে একাধীক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি শাটারগান উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনারপর সাঁথিয়া থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে নিহত দুইজনসহ তিনজনকে আসামী করে একটি এবং গণপিটুনিতে নিহত হবার ঘটনায় অজ্ঞাত ৫’শ থেকে ৭’শ জনকে আসামী অপর একটি মামলা দায়ের করেছে।

কোন মন্তব্য নেই