প্রকাশ্যে ওলামা লীগ নেতা ভেতরে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে মাদরাসা অধ্যক্ষ গ্রেফতার
বিশেষ প্রতিবেদক, পাবনামেইল টেয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনায় প্রকাশ্যে ওলামালীগ করলেও গোপনে জামায়াত ও জঙ্গী কার্যক্রমকে পৃষ্টপোষকতা করার অভিযোগে এক মাদরাসা অধ্যক্ষসহ ১৪ জন নারী জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে শহরের মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকায় বিপুল পরিমান জঙ্গি সংক্রান্ত বইপত্র ল্যাপটপ জব্দ করেন তারা। পাবনা সদর থানার এসআই মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আটককৃতদের সোমবার দুপুরে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম আহম্মেদ জানান, শহরের মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার ৫নং সড়কের ১১৯ নং বাড়িটির মালিক সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আনোয়ার হোসাইনের। দুইতলা বাড়ির নীচতলায় জামায়াতের নারী সদস্যদের আস্তানা ছিল। এখান থেকে নারী সদস্যরা মেয়েদেরকে সংগঠিত এবং নাশকতার ছক পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে বৈঠক করা অবস্থায় জামায়াতের ১৩ নারী সদস্য এবং বাড়ির মালিক কথিত ওলামলীগ নেতা অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসাইনকে আটক করা হয়। ওই আস্তানা থেকে বিপুল সংখ্যক জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।
ধুলাউরী কামিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, অধ্যক্ষ যদি জঙ্গিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, তাহলে আইন মোতাবেক তার বিচার দাবী করি। সে মূলত জামায়াত নেতা পরিচয় গোপন করে আমাদের নিকট নিজেকে ওলামা লীগ নেতা দাবী করতেন। অধ্যক্ষ তার সাথে কোন অপকর্মের সংশ্লিষ্টতা নেই দাবী করে আরো বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জরিফ উদ্দিনকে সাথে নিয়ে ওই মাদরাসার হাট নিজেদের কব্জায় রেখে কোটি কোটি টাকা বানিজ্য করতেন। গত ৫ বছর ধরে ওই মাদরাসার হাটটি অন্য কাউকে সিডিউল ক্রয় করতে দেন না বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা আরো জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জরিফ আহম্মদ’র সহায়তায় ধুলাউরী মাদরাসায় জামায়াত নেতা আনোয়ার হুসাইন ওলামালীগ হয়ে মুহাদ্দিস পদ থেকে অধ্যক্ষ বনে যান। তারপর শুরু হয় নানা ধরনের অনিয়ম আর অপকর্ম। ধুলাউরী হাট নিজেদের রেখে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন অধ্যক্ষ ও জরিফ চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জরিফ আহম¥দ’র মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে এ বিষয়ে সাথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ বলেন, আমি এই কর্মস্থলে একেবারেই নতুন তারপরেও যদি ওই অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে মামলা হয়ে তবে সে দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী সাথে সাথেই সাময়িক বহিষ্কার হয়ে যাবেন। আর ধুলাউরী হাট ইজারা দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর হাট-বাজার আইনে কখনোই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ইজারা দেওয়ার এখতেয়ার রাখে না।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার সেক্রেটারী মোঃ ইকবাল হোসাইন বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেন আমাদের সংগঠনের সাথে জড়িত নয় দাবী করে বলেন, সে ওই মাদরাসার মুহাদ্দিস ছিল পরে ওলামালীগের নেতা হওয়ায় তাকে অধ্যক্ষ করা হয়। তবে আমাদের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থা এদেশে কোন নিষিদ্ধ সংগঠন নয় যে তারা তাদের সাংগঠনিক বৈঠকাদি করতে পারবে না। তাদের কাছে কোরআনের তাফসির, বুখারী-মুসলিমসহ বিভিন্ন সংকলিত হাদিসের বইসহ মুসলমান হিসেবে ইসলামীক বই পুস্তক থাকাটাই স্বাভাবিক। এগুলোকে জিহাদি বই বলে চালানোর অপচেষ্টা নিতান্তই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে অধ্যক্ষ’র বন্ধু আব্দুল হক শিবপুর সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় পড়াকালীন ইসলামী ছাত্র শিবিরের পর্যায়ক্রমে সভাপতি ও সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কি পর্যায়ের নেতা ছিলেন বলতে পারে নাই।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছি, আরো অধিকতর তদন্ত চলছে। তবে ওই বাড়ির মালিক আনোয়ার হুসাইন প্রাথমিক ভাবে যেটা জানতে পেয়েছি সে মূলত জামায়াত বা কোন জঙ্গী সংগঠনের হয়ে কাজ করছেন। প্রকাশ্যে সে নিজেকে ওলামালীগ নেতাও দাবী করেন বলেও জানা গেছে। তবে তদন্তের পর বিস্তারিত সব বেড়িয়ে আসবে বলে ধারনা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে সুসাশনের জন্যে নাগরিক সুজনের পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল মতীন খান বলেন, আমাদের দেশে কোন দলই সঠিক যাচাই বাছাই করে দলীয় সদস্য পদ প্রদান বা নেতা করার রেওয়াজ নেই। একজন জামায়াত নেতা প্রকাশ্যে ওলামা লীগ বললেও তার বাসায় জামায়াত বা জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করা আওয়ামীলীগের জন্যে একটি সংকেত।



কোন মন্তব্য নেই