Pabna



ভাঙ্গুুড়ায় কমেছে দুধের দাম, গো-খাদ্যের দামও চড়া

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
সারাদেশে করোনাভাইরাস (কেভিড-১৯) প্রর্দূভাবের কারণে গত ২৬ শে মার্চ থেকে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দুরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হলেও জরুরী পণ্য, ঔষধ ও শিশু খাদ্যসহ বেশ কিছু পরিবহন চালু রয়েছে। তথাপিও পাবনার ভাঙ্গুড়ায় খামারীদের দুধের দাম কমেছে পাশাপাশাশি বৃদ্ধি পেয়েছে গোখাদ্যের মুল্য। যার ফলে তারা বিপাকে পড়েছে দুগ্ধ খামারীরা, লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা। এই অবস্থা থেকে তারা মুক্তি চায় ।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ভৌগেলিক গত কারণে পাবনা জেলার এই উপজেলার অনেক পরিবার গবাদি পশুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। আবার শত শত পরিবার স্বল্প পরিমানে জমি চাষাবাদের সাথে সাথে বাড়িতে গরু পালন করে থাকে। তারা গরু পালন করে এবং দুধ বিক্রি করে তাদের সংসার চালায়। আবার এ দুগ্ধখামারকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় অর্ধশতাধিক দুধের শিতলীকরণ সেন্টার। সব মিলে এই অঞ্চলে অনেক পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুগ্ধ খামারের সাথে জড়িত এবং গাভীর দুধ বিক্রি করে তাদের সংসার চালান। কিন্তু করোনাভাইরাস প্রদূর্ভাবের কারণে খামারীরা তাদের খামারের দুধ নিয়ে পড়েছে বিপাকে। দুগ্ধ শিতলীকরণ সেন্টার গুলি আগের তুলনায় প্রতিদিন এক থেকে দেড়হাজার লিটার দুধ কম সংগ্রহ করছে। যে কারণে ঐ অতিরিক্ত দুধ খামারীদেরকে বাজারে অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। যা খামারীদের মোটা অঙ্কের লোকসান গুণতে হচ্ছে ।

কিন্তু করোনাভাইরাসে অজুহাত দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোখাদ্যের দাম বস্তা প্রতি দুইশত থেকে তিন শত টাকা বেশি মুল্যে বিক্রি করছেন। আবার অফিস আদালতসহ সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান ছুটির কারণে দুগ্ধশিতলীকরণ সেন্টার মিল্কভিটা, আকিজ, প্রাণ ও ব্র্যাকসহ অনেক সেন্টার তারা কৌশলে তাদের টার্গেটের বেশি দুধ গ্রহণ করছে না। ফলে টার্গেটের অতিরিক্ত দুধ নিয়ে তারা একদিকে পড়েছে বিপাকে অন্য দিকে গোখাদ্য কিনতে হিমসিম খাচ্ছে। 
অপরদিকে গো-খাদ্য বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে চড়া দামে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের মুনাফা। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের প্রায় হাজার খানের ছোট বড় সাধারণ খামারীরা। এই অবস্থা থেকে তারা পরিত্রান চান।   

এ ব্যাপারে উত্তর সারুটিয়া মহল্লার দুগ্ধখামারী আলামিন বলেন, দুগ্ধ শিতলীকরণ সেন্টার আগের চেয়ে টার্গেট কমিয়ে দিয়েছেন তাই অতিরিক্ত দুধ বাধ্য হয়ে কম দামে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। অপরদিকে গো-খাদ্যের দাম আগের চেয়ে বেশী ।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাঙ্গুড়ার এক দুগ্ধ শীতলীকরণ সেন্টারের কর্মচারী বলেন, করোনাভাইরাস প্রদূর্ভাবের কারণে তাদের টার্গেট আগের তুলায় দেড় থেকে দুই হাজার লিটার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে অবস্থা স্বাভাবিক হলে আবার সাবেক টার্গেটে যাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
তবে গো-খাদ্য বিক্রেতা সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন খামারীরা। 

কোন মন্তব্য নেই