পাবনায় মা ইলিশ নিধন বন্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান ॥ ৯ জেলেসহ এক লক্ষ মিটার জাল আটক
পাবনা প্রতিনিধিঃ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নিধন
বন্ধে অভিযান চালিয়ে ৯ জেলেসহ এক লক্ষ মিটার জাল আটক করেছে পাবনা জেলা প্রশাসন ও
মৎস বিভাগ। আজ বুধবার রাতে পাবনার পদ্মা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করেন তারা। পরে
তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।
পাবনা জেলা মৎস কর্মকর্তা
আব্দুর রউফ বলেন, চলতি মাসের ৮ অক্টোবর থেকে নদীতে ইলিশ
ধরা, বিক্রি ও বহনে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন সরকার। এই
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যাক্তিরা নদীতে মা ইলিশ নিধন করেন।
পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টীম রাতে পদ্মা নদীর বিভিন্ন
পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৯ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যান আদালতে বিভিন্ন
মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। জেলেদের নিকট থেকে জব্দকৃত এক লক্ষ মিটার অবৈধ কারেন্ট
জাল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে কোমরপুরের একটি হাফিজিয়া এতিমখানায়
প্রায় এক মন ইলিশও বিতরণ করা হয়।
মৎস কর্মকর্তা আরো জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মা ইলিশ শিকারের দায়ে পাবনায় এ পর্যন্ত প্রায়
দুই শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি
নগদ টাকা জরিমানা করা, কয়েক টন ইলিশ এবং ২০ লাখ মিটার অবৈধ
কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে মৎস বিভাগের কোন
ব্যাক্তিকে মাছ ধরা বা বিক্রির সাথে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলে, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান
তিনি।
জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন
অভিযান পরিচালনা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এ বছরের হিসেব অনুযায়ী গত বছরের চেয়ে এবার
কয়েকগুন বেড়েছে অভিযান, মোবাইল কোর্ট, আটক,
জেল-জরিমানার পরিমাণ। তবে কিছু লোভী লোকজনের জন্যে এবার ইলিশ ধরা বা
বিক্রির পরিমান বেশী মনে হলেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা
রয়েছে, সেটা হলো পাবনার বিশাল এলাকা জুড়ে পদ্মা ও যমুনা নদী
প্রশাসনের পক্ষে সার্বক্ষনিক পাহাড়া দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এরই ফাকে তারা এই
ধরনের কাজ করছেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে মা ইলিশ ধরা বা ক্রয় থেকে বিরত থাকার
জন্যে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
অভিযান পরিচালনা দলে ছিলেন, জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা
ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোখলেছুর রহমান, জেলা মৎস কর্মকর্তা
অব্দুর রউফ, জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ,
সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, দোগাছি
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হাসান প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই