অনিশ্চয়তায় পাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষা- সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ
বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার মিটিং, মিছিল, সভা ও সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ ফারুক হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে দাবী একাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের ৪৭তম জরুরী সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আপাতত: মিটিং, মিছিল, সভা ও সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এ আদেশ পাবিপ্রবির সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য।
তবে ঘটনার পর পরই যে নোটিশ দেওয়া হয় বা ক্যম্পাসে টানানো হয় ওই নোটিশে সভা সমাবেশ, মিছিল মিটিং বা রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধের কোন কথাই উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে পাবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের ওই সভায় উপস্থিত কয়েকজনের সাথে কথা বলা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে কোন কথা বলেন নাই। ভাইস চ্যান্সেলরের নিজস্ব সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলেও তারা কোন প্রকার কথা বলেন নাই।
এদিকে আগামী ১৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার কথা থাকলেও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে তারা।
এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের ব্যর্থতা ঢাকতেই ক্যম্পাসে সভা সমাবেশ বা রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করেছেন। এটি কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভিসি স্যঅর কি করে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন আমাদের বোধগম্য নয়। অপরদিকে আগামী ১৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মোট প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী এবার ভর্তি ফরম ক্রয় করেছেন। হল বন্ধ এতো শিক্ষার্থী কোথায় কিভাবে অবস্থান করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবেন বিষয়টি ভিসি স্যার একবারের জন্যেও ভাবছেন না।
একাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে ভর্তি পরীক্ষা। এই অস্থিরতার মধ্যে কি করে ভর্তি পরীক্ষা নিবেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটাই তাদের ভাবনা।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাবিপ্রবি’র কয়েকজন শিক্ষক জানান, ক্যম্পাসের পরিবেশ ভালো না, এই সময়ে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহন করা খুবই কষ্টের কাজ হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে ভাইস চ্যান্সেলর স্যার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৭৫ জন শিক্ষক এনে পরীক্ষা গ্রহন করবেন বলেও জানিয়েছেন। এটি নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হবে বলে শিক্ষকরা জানান। কেননা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমনটি নেই। অন্যদিকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হেয় করে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অবশ্যই কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই বাহিরের শিক্ষকদের দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে বলেও ক্ষোভ জানান এই শিক্ষকরা। অপরদিকে এই ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার্থীরা যেখানে ভলেন্টারী সার্ভিস দিয়ে থাকে সেটা এবার সম্ভব হবে না। এতো শিক্ষার্থীর আশ্রয় দেওয়া সত্যিই অনেক কষ্টের হয়ে যাবে। বিভিন্ন জেলা সমিতি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাহায্যে কাজ করে থাকে ক্যম্পাস বন্ধ থাকায় এবার সেটাও সম্ভব হবে না বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে পাবিপ্রবি’র ভাইস চ্যান্সেলর ড. রোস্তম আলী ফরাজী বলেন, ক্যম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। তবে ক্যম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক হলে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তবে ভর্তি পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার সাধারন শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবীতে আন্দোলন করার সময় ভিসি লাঞ্চিত হলে ওই দিনই জরুরী ৪৭ তম রিজেন্ট বোর্ডের সভা করে দশ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ও মঙ্গলবার থেকে ক্যম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষনা করা হয়।


কোন মন্তব্য নেই