Pabna



চাঁদপুরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ১৮ শ্রমিকের পাবনার বাড়িতে শোকের মাতম

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
চাঁদপুরের মতলব ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার সীমান্তবর্তী কালিয়াপুর এলাকার মেঘনা নদীতে মঙ্গলবার ভোরে মাটি বোঝাই ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ২০ শ্রমিকের ১৭ জনের বাড়িই পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পাশাপাশি কয়েকটি তিনটি গ্রামে। গত মঙ্গলবার ভোর সাড়ে তিনটায় এই দূর্ঘটনার ২৪ ঘন্টা পড়েও নিঁখোজ ব্যক্তিদের সন্ধান মেলেনি। উদ্ধার হয়নি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও। নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামগুলিতে।
নিখোঁজ ২০ জনের মধ্যে ১৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলো: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুন্ডুমালা গ্রামের গোলাই গ্রামাণিকের ছেলে সোলেমান হোসেন, জব্বার ফকিরের ছেলে আলিফ হোসেন ও মোস্তফা ফকির, গোলবার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন-১, আব্দুল মজিদের ছেলে জাহিদ হোসেন, নূর ইসলামের ছেলে মানিক হোসেন, ছায়দার আলীর ছেলে তুহিন হোসেন, আলতাব হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন-২, লয়ান ফকিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম, দাসমরিচ গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ওমর আলী ও মান্নাফ আলী, তোজিম মোল্লার ছেলে মোশারফ হোসেন, আয়ান প্রামাণিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন, সমাজ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, মাদারবাড়িয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আজাদ হোসেন, চন্ডিপুর গ্রামের আমির খান ও আব্দুল লতিফের ছেলে হাচেন আলী এবং পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রহমত আলী।
পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ট্রলার ডুবিতে পাবনার ভাঙ্গুড়ার শ্রমিক নিঁখোজের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার সকাল থেকে নিঁখোজ শ্রমিকদের সন্ধানে মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি মুন্সীগঞ্জ সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ’র বরাত দিয়ে আরো বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার স্থান চিহ্নিত করতে সমস্যা হচ্ছিল। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কাজ করছেন সেখানে।
বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে মামুন আলী প্রামানিক ও পাইকপাড়া গ্রামের আশরাফ আলী মোল্লার ছেলে শাহ আলম জানান, ট্রলারের মাথার দিকে ছিলেন মামুন আর পেছনের দিকে ছিলেন শাহ আলমসহ বাকিরা। ট্রলার ডুবে যাওয়ার মুহুর্তে আমরা ১৪ জন উঠে আসতে পারলেও অন্যরা পারেনি।
মামুন ও শাহ আলম আরো জানান, ওই সময় চারিদিকে অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ৩ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে আমরা ঠান্ডা পানির মধ্যে সাঁতরে ভেসে ছিলাম। মনে হচ্ছিল মৃত্যু খুবই কাছে। পরিবারের কথা মনে পড়ছিল। আর ১০ মিনিট পানিতে থাকলে মারা যেতাম। মাটির ট্রলার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে না পৌঁছার কারণে মালিক পক্ষ মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পায়। সন্দেহ হলে তখন তারা আরেকটি ট্রলার নিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে।
এদিকে, নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পড়েও স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। তাদের আহাজারিতে খানমরিচ ইউনিয়নের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। 
খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান জানান, আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষই হত দরিদ্র। নিখোঁজ শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে মুন্সীগঞ্জ গিয়েছিল। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত  উপার্জনের অবলম্বন স্বজনদের হারিয়ে যেন অকুল পাথারে পড়েছে তাদের পরিবার। একদিকে স্বজন হারানোর শোক অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যত। তাদের সান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা সহযোগীতার আশ^াস দিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই