Pabna



প্রান্তিক কৃষকদের জন্যে জেলার চাটমোহরে প্রথম চালু হচ্ছে কৃষি সেবা কেন্দ্র্র



চাটমোহর প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনার চলনবিল অধ্যূষিত চাটমোহর উপজেলার কৃষিজীবিদের জন্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কৃষি সেবা কেন্দ্র। খুব দ্রুত এই সেবা কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষাবাদে দক্ষ করে তুলতে পাবনায় এই প্রথম চালু হচ্ছে কেন্দ্রটি। উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত কৃষি সেবা কেন্দ্র থেকে পোকার আক্রমণ থেকে কিভাবে ক্ষেতের ফসল রক্ষা করা যাবে, বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যাবে। এমন পরামর্শ ছাড়াও এই কেন্দ্র থেকে কৃষকরা পাবেন কৃষি বিষয়ে নানা প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি সেখান থেকে কৃষকরা পাবে সরকারি প্রণোদনায় দেয়া সার ও উন্নত মানের বীজ। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ‘কৃষি সেবা কেন্দ্র’ থেকে সেবা পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ওই ইউনিয়নের তিনটি ব্লকের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক পরিবার।

শস্য ভান্ডার সমৃদ্ধ এই উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবি। বছরের বেশিরভাগ সময় কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা। তবে এই এলাকায় এক সময়ে সার-বীজের সংকট ছিল প্রকট। কৃষকদের কৃষি উৎপাদন বিষয়ে দক্ষতা না থাকায় ফসল উৎপাদন হতো কম। তবে গত দশ বছরে পাল্টে গেছে আগের সেই চিত্র। কৃষকদের দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনায় প্রতিবছর দেয়া হয়েছে উন্নত মানের সার-বীজ। এছাড়া পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে ফলে বেড়েছে ফসলের উৎপাদন। কমেছে কীটনাশকের ব্যবহার। একই সাথে বেড়েছে ফসলের উৎপাদন। স্বচ্ছলতা বেড়েছে কৃষক পরিবারগুলোতে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলা কৃষি অফিসে আসা-যাওয়া করতে কৃষকদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন ‘সেবা’ চলে যাচ্ছে কৃষকদের দোরগোড়ায়, ফলে সময় অপচয় রোধ হবে কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক সেবা কেন্দ্র স্থাপন ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ (পাইলট) প্রকল্পের আওতায় এবং এলজিইডির বাস্তবায়নে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট কৃষক সেবা কেন্দ্র থেকে ওই এলাকার কৃষকরা পাবেন নানা পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ। কৃষকরা ঘরে বসেই পাবেন কৃষি সেবা। পাশাপাশি কৃষক সেবা কেন্দ্রে উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের জন্য থাকছে আবাসন সুবিধা। পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকায় বাস করে কৃষকদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে কৃষি বিষয়ে নানা পরামর্শ দিতে পারবেন তারা।

পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, সজনাই গ্রামের কুলসুম বেগমসহ বেশ কয়েকজন কৃষকরা জানান, চাষাবাদ শুরুর সময় পরামর্শ নিতে বা সার বীজ নিতে প্রায়ই কৃষি অফিসে যেতে হতো। কিছুদিনের মধ্যে আমরা ঘরে বসেই কৃষি সেবা ও প্রশিক্ষণ পাবো, বিষয়টি অনেক ভাল লাগছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণসহ কৃষকরা নানা বিষয়ে পরামর্শ এবং সার কীটনাশক পাবেন এই সেবা কেন্দ্র থেকে। কৃষি সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি সেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

কোন মন্তব্য নেই