পাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল, অনুপস্থিত ছিল ২৯ ভাগ
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সম্মান প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭৪ ভাগ শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। পাশের হার ২৬ শমিক ২৮। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৪ হাজার ভর্তি ফরম উত্তোলন করলেও পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৭১ ভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অস্থিরতার জন্যেই উপস্থিতির হার কম হয়েছে বলে সিনিয়র শিক্ষকরা দাবী করেন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এই তথ্য। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্যে লজ্জাষ্কর বলেও দাবী করেন কয়েকজন শিক্ষক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম ভর্তি পরীক্ষায় এতো কম সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত হলো। শুধুমাত্র এই প্রশাসন সম্পূর্ণ নিজ ক্ষমতা বলে কাজটি করেছেন। ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কথা চিন্তা না করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস বন্ধ রেখে এভাবে পরীক্ষা গ্রহন না করলেও পারতেন। এই অস্থিরতার জন্যেই মেধাবী অনেক ছাত্র ভর্তি ফরম উত্তোলন করলেও পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন নাই। এরই ফলশ্রুতিতে এবার পাশের হার কমে ২৬ শতাংশ হয়েছে বলে তারা মতামত ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা শূণ্য করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন অত্যন্ত সুকৌশলে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন না আসে তাই ভর্তি পরীক্ষার পূর্বে সামান্য একটি বিষয় নিয়ে দশ ছাত্রকে বহিষ্কার করে ক্যম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষনা করেন। এর ফলেই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল এমন হয়েছে। কোন মেধাবী ছাত্রই সম্পূর্ণ অচল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায় না বলেই তারা আসে নাই বলে দাবী করেন।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট কমিটি অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারের কাছে ফলাফল হস্তান্তর করেন। এ সময় পাবিপ্রবি’র ভাইস চ্যান্সেলর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। বিষয়টি সত্যিই লজ্জার। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, আমরা যখন ভর্তি হই, ওই বছরেও পাশের হার অনেক ভাল ছিল। এতো ছাত্র কখনোই ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেনি। বিষয়টি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও তারা দাবী করেন।
কোন মন্তব্য নেই