সাঁথিয়ায় দশ দিনেও কলেজ ছাত্রীকে ফিরে পায়নি বাবা
বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনার সাথিয়া মহিলা কলেজের একাশদ শ্রেণীর শিক্ষার্থী অপহরণের দশ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এদিক পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীটির পরিবার। মেয়েটির বাবা গত দশদিন ধরে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে মেয়েকে ফিরে পেতে ধরনা দিয়েও নিরাশ হয়ে পরেছেন।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও মেয়েটির পরিবার জানান, সাথিয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী কলেজের যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে পাশ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার চিথুলিয়া গ্রামের আলহাজ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২০) প্রেমসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। মেয়েটি ওই বখাটের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় আবদুল্লাহ। এরই জের ধরে গত ২৮ জানুয়ারী কলেজ থেকে ফেরার পথে সাথিয়ার ইছামতি নদীর উপর ব্রীজের নিকট থেকে মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর ওই ছাত্রীর বাবাসহ কয়েকজন আব্দুল্লাহ’র পরিারের নিকট গিয়ে নিজ মেয়েকে ফিরে দেওয়ার অনুরোধ করেন। আব্দুল্লাহ’র পরিবার বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় তিনি গত ৩০ জানুয়ারী সাথিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ওই বখাটের ভাই বিপুলকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামীকে গ্রেফতার ও ঘটনার দশদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মেয়েটিকেও উদ্ধার করতে পারেন নাই।
মেয়েটির বাবা গোলাম মোস্তফা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি আমার মেয়েকে সুষ্ঠুভাবে ফিরে পেতে চাই। এ জন্যে ওই ছেলের বাবা-মা পরিবারসহ পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অনুরোধ করেছি তবুও আমার মেয়েকে ফিরে পাইনি। মেয়েকে ফিরে পেতে আমি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা চাই। ছেলের বাবা স্বীকার করলেও ছেলে-মেয়েকে আমাদের সামনে হাজির করেন নাই।
এ বিষয়ে বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যেহেতু আসামীর বাড়ি পাশের জেলায় তবুও আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি মেয়েটিকে উদ্ধার ও আসামীকে গ্রেফতারের জন্যে। যদিও একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, তবুও অচিরেই আমরা সফল হবো। ইতিমধ্যে সাথিয়া থানা ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ কাজ করছেন। আর মেয়েটির পরিবার পুলিশের অবহেলা করার যে কথা বলেছেন তা সঠিক নয় বলেও দাবী করেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই