শিমলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবৈধ সম্পদ অজর্নের দায়ে দুদকের তিনটি মামলা
বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
প্রায় নয় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অজর্নের দায়ে সাংবাদিক সুর্বণা আক্তার নদী হত্যার প্রধান আসামি নদীর প্রাক্তন শশুর পাবনার ইড্রাল ঔষধ কোম্পানী ও শিমলা হাসপাতাল ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক আবুল হোসেন (৬০) সাবেক স্বামী রাজিবুল ইসলাম রাজিব (৩০) ও শাশুড়ি মোছা: তাছলিমা হোসেনের (৪৫) বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা করেছে দুদক। মঙ্গলবার বিকেলে দুদক পাবনা অফিসের সহকারি-পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক মামলা করেন। মামলা নং যথাক্রমে ৮৯,৯০,৯১ তাং-২৯/০৫/২০১৯।
দুদক পাবনা অফিসের সহকারি-পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান জানান, নারী সাংবাদিক নদী হত্যা মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুদক। তদন্তে ইড্রাল ওষধ কোম্পানী ও শিমলা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার মালিক নদী হত্যা মামলার আসামি আবুল হোসেন ১৯৭৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিজ নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি মিলে ৪০ কোটি ৬৬ লাখ ১৪ হাজার ৬১টাকার সম্পদের হদিস পায়। এরমধ্যে তার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত ৮ সম্পদ কোটি ৯১লাখ ৯১ হাজার ৮২৯ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রী মোছাঃ তাসলিমা হোসেনের নামে অর্জিত ২ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ২১৫ টাকার সম্পদের মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত ১ কোটি ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায়। এরপর দুদক অনুসন্ধানে জানতে পারে আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ রাজিব হোসেনের নামে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৬১ হাজার ৫’শ টাকার সম্পদের মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৩ লাখ ৭৬ হাজার ৩’শটাকা। তিনজনের সম্পদের পরিমান ৪৫ কোটি ৭৮ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৭৬। এরমধ্যে ৮কোটি ৯১ লক্ষ ৯১ হাজার ৮২৯ টাকা জ্ঞাত আয় বহিভুত সম্পদ অর্জন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদক আইনে তাদেরকে ৭ দিনের মধ্যে আয়-ব্যয়ের উৎস বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আয়-ব্যয়ের বিবরণী দাখিল না করায় দুদক সহকারি পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান পাবনা সদর থানায় বাদি হয়ে তিনজনের নামে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে দুদকের আরেকটি মামলায় ইড্রালঔষধ কোম্পানী ও শিমলা হাসপাতাল ও ডায়গনষ্টি সেন্টারের মালিক আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী তাসলিমা হোসেন কারাগারে আছেন। নদীর প্রাক্তন স্বামী রাজিবুল ইসলাম রাজিব পলাতক রয়েছেন।
পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক দুদকের তিনটি মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে দুদক নিজেই তদন্ত করবেন। এর আগে ১২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করায় উল্লেখিত তিনজনের নামে আরো তিনটি পৃথক মামলা করে দুদক। সেই মামলায় আবুল হোসেন ও তার স্ত্রী বর্তমানে কারাগারে আছেন।
গত বছরের ২৮ আগষ্ট নিজ বাড়ীর সামনে নদীর প্রাক্তন স্বামী রাজিবুল ইসলাম রাজিব ও তার সহযোগিরা নদীকে নৃংশসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
নদীর মা মর্জিনা খাতুন অভিযোগ করেছেন, মৃত্যুর আগে নদী হত্যকারীদের নাম বলে গেছেন। নদীর প্রাক্তন স্বামী স্বামী রাজিবুল ইসলাম রাজিব ও তার সহকারী মিলনসহ ৪/৫ জন মোটর সাইকেল থেকে তার উপর হামলা চালায় এবং চাপাতি দিয়ে এলোপাথারী কোপায়।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে দেওয়া এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সে আবুল হোসেন, তার ছেলে রাজিবুল ইসলাম রাজিব এবং সহযোগি মিলনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭/৮ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে পাবনা সদর থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনার পর পরই আবুল ও মিলনকে গ্রেফতার করতে পারলেও তার ছেলে রাজিব কে গ্রেফতার করতে পারেনি।



কোন মন্তব্য নেই