শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৭ পলাতক আসামীর আত্মসমার্পন
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনার আলোচিত ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৭ আসামী আদালতে আত্মসমার্পন করেছে। আজ রবিবার দুপুরে পাবনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ তারা আত্মসমার্পণ করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী আকতারুজ্জামান মুক্তা বলেন, গত ৩ জুলাই ওই মামলার রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদন্ড ২৫ জনের যাবজ্জীবনসহ ১৩ জনের দশ বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী।
এ মমলায় পলাতক ১৩ আসামীর মধ্যে ৭ জন রবিবার আত্মসমার্পন করলেন। তাদের মধ্যে ৪জন যাবজ্জীবন এবং ৩জন ১০ বছর কারাদন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী রয়েছেন।
আত্মসমার্পনকারী সাত আসামীরা হলো: যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আছির উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম, আব্দুল গফুর গার্ডের ছেলে মো: রবি, জালাল গার্ডের ছেলে মামুন, জয়েন উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। এবং দশ বছর কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলো মহসীন রিয়াজীর ছেলে রনো, জামাত আলী সরকারের ছেলে চাঁদ আলী, মতিউর রহমান সরদারের ছেলে হুমায়ুন কবির। পরে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরন করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি ও পথসভার করার কথা ছিল। শেখ হাসিনার বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী ষ্টেশনে পৌছিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ট্রেন ও তার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ওই সময়ে জিআরপি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সিআইডি মামলাটি পুনতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুন করে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়। পরে সিআইডির তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলা নম্বর এসটি ৪২/৯৭। দীর্ঘ ২৫ বছর পর গত ৩ জুলাই এই মামলার রায় ঘোষনা করে আদালত।

কোন মন্তব্য নেই