ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলার রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন
বিশেষ প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম: পাবনার আলোচিত ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা ও গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদন্ড ২৫ জনের যাবজ্জীবনসহ ১৩ জনের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুর বার টার দিকে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী এক জনাকীর্ন আদালতে এই রায় ঘোষনা করেন।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তনা হলেন, কেন্দীয় বিএনপির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান ওরফে ন্যারা বাবলু, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান আকতার, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, বিএনপি নেতা মাহবুবুল রহমান পলাশ, রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, শামছুল আলম, আজিজুর রহমান ভিপি শাহীন, শহীদুল ইসলাম অটল। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে শুধুমাত্র জাকারিয়া পিন্টু পলাতক থাকলেও অপর অঅসামীরা কোর্টে উপস্থিত ছিলেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী আকতারুজ্জামান মুক্তা বলেন, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে যাত্রাবিরতি ও পথসভার করার কথা ছিল। শেখ হাসিনার বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী ষ্টেশনে পৌছিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ট্রেন ও তার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ওই সময়ে জিআরপি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পুলিশ মামলাটি পুনতদন্ত করে। তদন্ত শেষে নতুন করে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরের বছর পুলিশ কোনও সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চুড়ান্ত চার্জশীট দাখিল করে। পরে আদালত ওই চার্জমীট গ্রহন না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করেন। পরে সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলা নম্বর এসটি ৪২/৯৭।
এদিকে এই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে গত মাসের ৩০ জুন আদালতে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ৩০ জন নেতাকর্মী আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) মামলার আরও দুই আসামি ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান ওরফে বাবলু এবং বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম টেনু আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ ওই দিন রাতেই মামলার আরেক আসামিকে গ্রেফতার করে।
মামলায় ৫২ জন আসামীর মধ্যে ৫ জন ইতিপূর্বে মারা যাওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যঅহতি দেয় অঅদালত।
দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমানের পর আদালত বুধবার এই মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনের দশ বছর সশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন বিচারক।
এদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেন, এই রায় একটি প্রহসনের রায় হলেও আদালতের রায় আমরা মেনে নিলেও দ্রুত আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।
রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পাবনার ঈশ্বরদী ও পাবনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। এদিকে আদালত চত্বরে আসা আসামীদের স্বজনরা রায় ঘোষনার পর পরই কান্নায় ভেঙ্গে পরে। অপরদিকে বিএনপি ও আসামীল স্বজনরা রায়ের প্রতিবাদে কোর্ট চতবরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরাও আনন্দ মিছিল শুরু করে। এ সময় কোর্ট চত্বরে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আদালতে উপস্থিত লোকজন দিগি¦দ্বিগছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।




কোন মন্তব্য নেই