ঝড় বৃষ্টিতে বিদু্ৎহীন পাবনায়ও আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় আম্পান
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ
উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার পাবনায়ও আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ধারনা। উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করে বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে সাগর উত্তাল রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের মূল অংশ বাংলাদেশে না এলেও এর প্রভাবে আজ রাতভর ঝড়ো বা দমকা হাওয়া বইবে পুরো উপকূলের পাশাপাশি পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায়।
আবহাওয়া অধিদফতরের আশঙ্কা, ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টিতে মাছ, গবাদিপশু, আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে পাবনা শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝড়ে উপড়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ গাছপালা। বিদ্যুতের খুঁটির ওপর গাছ পড়ে অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। পাবনা শহরেও সন্ধ্যা থেকেই বিদুৎ বিহীন রয়েছ। ফলে পুরো পাবনাবাসী এ মুহূর্তে আছেন চরম ভোগান্তির মধ্যে।
বর্তমানে আম্পানের মূল অংশ অর্থাৎ কেন্দ্র ভারতের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু এর ব্যাস বড় হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা জেলা ও সুন্দরবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে এই ঝড়। এসব জেলাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে এখন ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে উপকূলীয় জেলাগুলোতে জোয়ারের সময় পানি উঠবে অনেক বেশি পরিমাণে।
এদিকে আবহাওয়াবিদ কামরুল হাসান বলেন, আগামী তিন চার ঘণ্টা ঝড় চলবে, দেশের প্রায় সব এলাকা বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে এই অবস্থা থাকবে। এরপর ভারী বৃষ্টি হতে পারে সারারাত। এই ভারী বৃষ্টির কারণে প্রচুর এলাকা প্লাবিত হবে।
সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের কাছ দিয়ে পরে এর প্রভাব পড়বে যশোর ও নড়াইল জেলায়। এরপর রাত ১২ টা থেকে ১টার মধ্যে ঝড়ের প্রভাব পড়বে মাগুরা, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ থেকে জামালপুরের দিকে। এরপর সকালের দিকে সারারাতের বৃষ্টিতে পাবনা হয়ে রাজশাহীর দিকে গিয়ে নিম্নচাপে রূপ নেবে বলে আবহাওয়া অধিদফতর আশা করছে।
আবহাওয়ার বৃষ্টির পূর্বাভাসেও বলা হয়, দেশের প্রায় সব জেলায় ভারী বৃষ্টি অর্থাৎ ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার থেকে অতিভারী বৃষ্টি অর্থাৎ ৮৯ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে।
আজ বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ফেনীতে ৮০ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে গোপালগঞ্জে ৩৪, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে ঈশ্বরদীতে ২০, খুলনা বিভাগের মধ্যে মংলায় ৭৩, এছাড়া সাতক্ষীরায় ৬৪, যশোরে ৫৭,, বরিশালে ৪৮, পটুয়াখালীতে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই