পাবিপ্রবি খুললেও শীর্ষ তিন কর্মকর্তা অনুপস্থিত, সরকারি নির্দেশনা অমান্য
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রবিবার (৩১ মে) থেকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় খোলা হয়েছে। তবে খোলার প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ তিন কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় ক্যম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে বিশ^বিদ্যালয়ে নিরাপত্তামূলক সরঞ্জামাদি না থাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যাপক ক্ষোভের সষ্টি হয়েছে। অনুপস্থিত তিন শীর্ষ কর্মকর্তারা হলেন, পাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী, উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম ও কোষাধাক্ষ্য প্রফেসর ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ।
সম্প্রতি চরম আপত্তি উপেক্ষা করে পাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলীর নির্দেশে বিশ^বিদ্যালয় অতিরিক্ত রেজিস্টার বিজয় কুমার ব্রহ্ম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, জুন ফাইনাল সামনে রেখে বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধশত কোটি টাকা খরচ দেখাতেই তড়িঘড়ি করে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করছেন কর্তৃপক্ষ।
বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সূত্রে জানা যায়, দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সকল সরকারী ও বেসরকারী বিশ^বিদ্যালয়ের অনলাইন ও ডিসট্যান্স ক্লাস ছাড়া যাবতীয় কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত ২৮ মে, বৃহস্পতিবার ইউজিসি স্মারক নং-ইউজিসি/প্রশাসন/৪(৪)/৭৩/১১-১/২২২৭, প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ বিশ^বিদ্যালয় ১৫ জুন পর্যন্ত সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিলেও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে অবিবেচনা প্রসূত উল্লেখ করে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ^বিদ্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
পাবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্যাররা অফিস খোলার প্রথম দিনে ক্যম্পাসে আসেন নাই। হয়তো কোন কাজে ব্যস্ত আছেন। তবে পযাপ্ত জীবানুনাশক স্বাস্থ্যবিধির কোন প্রস্তুতিই ছিলনা বিশ^বিদ্যালয়ে।
পাবিপ্রবি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো: সোহাগ হোসেনও তিন শীর্ষ কর্মকর্তার অনুপস্থিত থাকার বিসয়টি স্বীকার করেন। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যে অফিসে অফিসে স্বল্প পরিসরে ব্যবস্থা ছিল বলেও দাবী করেন।
সহকারী রেজিষ্ট্রার জহুরুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, আমি অফিসে কোন প্রকার স্যানিটাইজার বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী পাই নাই। তবে নিজেই নিজের মতো সুরক্ষা নিয়ে অফিসে গিয়েছিলাম। শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যারদের সাথে আমার সাক্ষাত হয়নি। তবে ক্যম্পাসে এসেছেন কিনা আমি জানি না।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে আলাপকালে তারা নিশ্চিত করলেও শীর্ষ তিন কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পরে নাম পরিচয় দিতে অনুরোধ জানান।
তবে এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি কোভিড-১৯ এর একটি ল্যাব করা নিয়ে ব্যস্ত আছি। এখন ঢাকায় অবস্থান করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
একই বিষয়ে পাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী, উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলামের মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রার বিজন কুমার ভ্রম্য বলেন, আমি ভিসি স্যারের কথায় আদিষ্ট হয়ে কাজ করি। ক্যম্পাস খোলার নিদেশ দিয়ে স্যাররা না এলে আমি তো কিছু বলতে বা করতে পারি না। ভিসি স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী বিশ^বিদ্যালয় খোলার নোটিশ করাসহ যাবতীয় কাজ করেন বলেও জানান তিনি।



কোন মন্তব্য নেই