পারমানবিক বিদুৎ প্রকল্পের অর্থ বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রাণ দিতে হলো মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনার রূপপুরের পাকশীতে মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবসী। বুধবার রাতের এই হত্যা কান্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রুপপুর মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডারসহ মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবী প্রভাবশালী মহলের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সেলিম। সম্প্রতি, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে স্থানীয় একটি চক্রের অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদ করে তাদের রোষানলে পড়েন তিনি। পথের কাঁটা দূর করতেই তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী স্বজনদের। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ছাড় না দেয়ার আশ^াস স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের।
এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে সানজানা রহমান তোপা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বাবা বর্তমান রাজনীতির সাথে ঐক্যমত না হওয়ায় নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন। তারপরও কেন সন্ত্রাসীরা আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করলো। আমি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
পাকশী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি আর সেলিম খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম। এক সাথে কয়েকদিন আগেও রাজশাহী থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসি। তার একটাই সমস্যা ছিল, সেটা হলো অন্যায়েল সাথে সে কোনদিন আপোষ করেন নাই। অন্যায় ও দূর্নীতির প্রতিবাদ করাই কাল হলো সেলিমের।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকরা জানান, সম্প্রতি রুপপুর পারমানবিক প্রকল্পের অধিগ্রহনকৃত জমির ভূয়া তালিকা দিয়ে একটি চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এর প্রতিবাদ করার জন্যেই তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে পাবনার ঈশ^রদীর রূপপুর বিবিসি বাজার থেকে নিজ বাড়ীতে ফিরছিলেন পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিম। বাড়ীর দরজায় কড়া নাড়ার সময় ্ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে পর পর তিন রাউন্ড গুলি করে মোটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেবার পথে মারা যান সেলিম।
সাম্প্রতিক সময়ে রূপপুর এলাকায় নিরপত্তা বলয়ের মধ্যেই একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও অজ্ঞাত কারণে কোনটিরই সুরাহা করতে পারে নি পুলিশ। আতঙ্কের জনপদে পরিণত হওয়া রূপপুর এলাকায় স্বস্তি ফেরাতে সকল হত্যাকান্ডের বিচার চান স্থানীয়রা।

কোন মন্তব্য নেই