পাবিপ্রবি’র শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড রাবি তে- চরম ক্ষোভ ক্যম্পাসে
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড রাজশাহীতে করায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে ক্যম্পাসে। এ নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের নিয়োগ বানিজ্যের কথা বলেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
পাবিপ্রবি রেজিষ্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, আগামী ৮ মার্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগের জন্যে সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক প্রত্যাশিত পদে আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার জন্যে কার্ড ইস্যূ করে। ওই কার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৮ মার্চ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সকাল ৯টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি জানাজানি হলে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নিজ ক্যম্পাস ছেড়ে অন্য ক্যম্পাসে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে অনেকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন।
পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ভিসি স্যার যা শুরু করেছেন, তাতে মনে হচ্ছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যম্পাসে পরিনত করবেন। আমরা কোন ভাবেই এই পরীক্ষা রাজশাহীতে হতে দিব না।
পাবিপ্রবির সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ড. হাসিবুর রহমান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ধরনের কার্যকলাপ হয়নি। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে উপাচার্যের অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে আমি মনে করি।
পাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক কিসলু নোমান প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের সকল কার্যক্রম এখানেই হবে এমনটি আমরা প্রত্যাশা করি। ইতিপূর্বে ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দায়িত্ব দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল। যা ছিল আমাদের জন্যে অপমান জনক।
পাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষনিক উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আমাদের ক্যম্পাসে শিক্ষক নিয়োগের সকল কার্যক্রম সমাপ্ত করার অনুরোধ করেছি।
পাবিপ্রবি প্রো ভিসি ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। নিজ বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে শিক্ষক নিয়োগের দৃষ্টান্ত আমার চোখে পরে নাই। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদি রাজশাহীতে এই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমি সেখানে অংশ গ্রহন করবো না।
এ বিষয়ে ভিসি রোস্তম আলীর মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই