Pabna



পদোন্নতি না পাওয়ার দুঃখ নিয়ে চলে গেলেন পাবিপ্রবির সিনি: সহ: প্রকৌশলী

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
অত্যন্ত ক্ষোভ আর বঞ্চনার কষ্ট বুকে নিয়ে চির দিনের জন্যে পরপারে চলেগেলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান (৪৩)। আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকাস্থ গেষ্ট হাউজে ইন্তেকাল করেন ( ইন্নালিল্লাহে....... রাজেউন)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুর গ্রামের সৈয়দ মুনসুর আলী ও আলেয়া বেগমের সন্তান। মৃত্যুকালে মোঃ কামরুজ্জামান মৃত্যুকালে স্ত্রী মনজিলা খাতুন, মেয়ে আনিকা (৮) ও ছেলে মাহির (৫) সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকে ছায়া নেমে এসেছে সহকর্মীদের মধ্যে। অনেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বঞ্চনার কথা উল্লেখ করেছেন। 
পাবিপ্রবি সূত্র জানায়, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (ইন্সট্রুমেন্ট) পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১০ সালের ২ জানুয়ারি মোঃ কামরুজ্জামান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। নিয়মানুযায়ী গত বছরে তার পদোন্নতির কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের তালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করে আসছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি অত্যন্ত কষ্টে ও দুশ্চিন্তায় সময় পার করতেন। একাধিক সহকর্মীরা দাবী করেছেন পদোন্নতি না পাওয়ার কারনেই তিনি অকালে মৃত্যুবরণ করেন। তাছাড়া এই অসময়ে তার চলে যাওয়ার কথা না। 
কামরুজ্জামান অত্যান্ত মেধাবী ছিলেন, ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করে সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। পাটের বিকল্প হিসাবে এক ধরনের অর্নামেন্টাল প্লান্ট থেকে তন্তু উদ্ভাবন করেন যা বিভিন্ন মহলে সমাদৃত হয়। এছাড়া তিনি ইটের ভাটায় ক্ষতিকর ধোঁয়া নিয়ন্ত্রক একটি যন্ত্র আবিস্কার করেন। গত একবছর ধরে তিনি পদোন্নতি না পেয়ে খুবই মনোকষ্টে দিনাতিপাত করতেন। 
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খামখেয়ালী চিন্তার কারনে নিহতের পরিবার এককালীন প্রায় দশ লক্ষ টাকা ও প্রতিমাসে প্রায় দশ হাজার টাকা কম পাবে বলেও জানান তার সহকর্মীরা। এতে তার ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ও পরিবার অভাব অনটনে দিন পার করতে হবে। 
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছেন, এই মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রোস্তম আলী, উপ-উপাচার্য আনোয়ারুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার খসরু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয়, সাধারণ সম্পাদক কিসলু নোমান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ ডন, জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। 

কোন মন্তব্য নেই