Pabna



পাবনার সন্তান ক্যানসার রেডিয়েশন পরিমাপক যন্ত্র আবিস্কারক ড. মিজানকে প্রধানমন্ত্রী সম্মাননা পেলেন

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম: 
পাবনার কৃতি সন্তান বিজ্ঞানী ড. মিজানুর রহমান রানাকে বিজ্ঞান গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেছেন।
আজ বুধবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এমএসটি ফেলোশিপ ও গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় এই সম্মাননা প্রদান করেন।  
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওমসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. আ ফ ম রুহুল হক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন। 
তার গবেষণার নাম হচ্ছে ‘তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ যন্ত্র এল এস-১০০০ডোসিমেট্টি সিস্টেম’। এই গবেষণায় তিনি যে যন্ত্র আবিস্কার করেছেন তা দিয়ে শুধু ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে অতিমাত্রায় রেডিওথ্যারাপি দেওয়ার সময় সুস্থ কোষ রক্ষায় রেডিয়েশনের মাত্রা পরিমাপই নয়, যেকোন পরিমাপই নয়, যে কোন পারমাণবিক এলাকার তেজস্ত্রিয়তা পরিমাপের বিশেষ ধরণের ডিজিট্যাল যন্ত্র উদ্ভাবণ করে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক পুরস্কার পান বাংলাদেশের তরুণ পরমাণু বিজ্ঞানী ড. একে এম মিজানুর রহমান।  
ইতোমধ্যে ব্রিটেন, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে তার গবেষণায় উদ্ভাবিত ডিজিটাল যন্ত্রটি ক্যানসার হাসপাতালে এবং রেডিয়েশন আওতাভুক্ত এলাকায় ব্যবহারের বিষয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। রেডিয়েশন সঠিক মাত্রা প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের ডিজিটাল যন্ত্রটি ২০১৭ সালের মে মাসে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন অ্যাান্ড টেকনোলজি এক্সিবিশনে (আইটেক্স) মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বর্ণপদক লাভ করেছে। 
বিজ্ঞানী মিজানুর রহমানের বাড়ি পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার সদরে। সঁথিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্কুল শিক্ষা শেষ করে তিনি পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচ এস সি পাশ করেন। এর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরে পি এইচ ডি করেন। বর্তমানে ৪৬ বছর বয়স্ক এই বিজ্ঞানী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ঢাকার পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞনিক কর্মকর্তা।
সূত্রমতে, বর্তমানে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে যে রেডিয়েশন দেওয়া হয়, তা অতিমাত্রার। রেডিওথ্যারাপি বা রেডিয়েশন দেওয়ার সময় কিছু সুস্থ কোষ বা টিস্যু নষ্ট বা ধ্বংশ হয়ে যায়। ডক্টর মিজানের গবেষণা কীভাবে রেডিয়েশনে সুস্থ কোষগুলো রক্ষা করা যায় তা নিয়ে। তার গবেষণায় রেডিয়েশনে সুস্থ কোষগুলো রশ্মির আওতায় না এসে তা কার্যকর থাকে। এ ছাড়া গবেষণালব্ধ রিয়াল টাইম রেডিয়েশন ডজিমেটারি  সিস্টেম দ্বারা ক্যানসার রোগীর রেডিওথ্যারপি প্রয়োগের সময় প্রয়োগকৃত তেজস্ক্রিয়তার সঠিক মাত্রা সরাসরি যাচাই করা সম্ভব। আবিস্কৃত যন্ত্রটি অতি ক্ষুদ্রাকৃতির অপটিক্যাল ফাইবার সেন্সর ব্যবহার করে মেডিক্যাল লাইনার এক্সিলেটর দ্বারা প্রয়োগকৃত ডোজ সরাসরি অপারেটিং রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
জানা গেছে, ডক্টর মিজানের উদ্ভাবিত আধুনিক যন্ত্রটি তার ডক্টর অব ফিলোসফির (পি এইচ ডি) গবেষণার একটি অংশ ছিল। গবেষণাটি বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অব সায়েন্স এন্ড আই সি টি প্রকল্পের আওতায় মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে শেষ করেন। গবেষণায় সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন প্রফেসর হাইরুল আজাহার আব্দুর রশীদ ও ব্রিটেনের প্রফেসর ডেভিড এন্ড্রু ব্রাডলি।  এই গবেষণা স্পেন, চীন, গ্রীস, আয়ারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে উপস্থাপিত হয়েছে। ড, মিজানের স্ত্রী ডক্টর মাহফুজা বেগমও বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তিনি বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট হাবিবুর রহমান স্বপনের সহোদর। 
 এই গবেষণা কাজে নানামুখী সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন ড. মিজানুর রহমান। তার আশা এই গবেষণা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়। সবাই এর দ্বারা উপকৃত হবে এটাই তার চাওয়া।

কোন মন্তব্য নেই