Pabna



ঢালারচরে চরমপন্থিদের ব্রাশফায়ারে ৩ পুলিশ হত্যা মামলায় ৮ চরমপন্থীর যাবজ্জীবন সাজা

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম :
পাবনার বেড়া উপজেলার চরমপন্থি অধ্যূষিত ঢালারচরে তিন পুলিশ হত্যা মামলার আট চরমপন্থীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার রায় এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় ওই আদালতের বিচারক। 
মামলার আইনজীবী ও পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু জানান, ১৫ আসামির মধ্যে চারজন বিভিন্ন সময় ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। বাকি ১১ আসামির মধ্যে আটজনকে যাবজ্জ্বীবন কারাদন্ড ও তিনজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। তবে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে এখনও দুজন পলাতক রয়েছেন। বাকি ছয়জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, ২০১০ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় একদল সশস্ত্র চরমপন্থী পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালালচর পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ করে ব্রাশফায়ার করেন। চরমপন্থীদের  ওই ব্রাশফায়ারে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কফিল উদ্দিন (৪৮), নায়েক আবদুল ওয়াহেদ আলী (৩৬) ও পুলিশ কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম (৩৫) মারা যায়। এ ঘটনায় আহত হন আরও চার পুলিশ সদস্য। 
এদিকে পুলিশ হত্যার পর চরমপন্থীরা অস্ত্র ও গোলাবারুদও লুট করে নিয়ে যায়। পরে পূর্ব-বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল (লাল পতাকা) নামে একটি সংগঠন পুলিশ হত্যার দায় স্বীকার করে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করে ওই ঘটনার পর।

এদিকে এ ঘটনার পরদিন পুলিশের পক্ষ থেকে বেড়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলাটি গত বছর পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ শুনানির শেষে আদালতের বিচারক বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন।

ইতিপূর্বেও ১৯৯৭ সালে চরমপন্থিদের গুলিতে এসআই হেদায়েত নিহত হন ঢালারচর এলাকায় সন্ত্রাসী ধরতে গিয়ে।

প্রসঙ্গত, পাবনার দূর্গম ঢালারচর মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি ও পাবনা জেলার সীমান্তবর্তী এলাক হওয়ার জন্যে চরমপন্থিদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়। বর্তশানে রাস্তাঘাটটের কিছুটা উন্নতি ও পুলিশী তৎপরতার জন্যে কিছুটা নিরব থাকলেও ঢালঅরচরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দাগী সন্ত্রাসীরা এসে আশ্রয় নেন বলেও এলাকা জনশ্রুতি আছে। 

কোন মন্তব্য নেই