Pabna



দুবাইয়ে ‘পারসন অব দি ইয়ারে’ ভুষিত হলেন ইউনিভার্সাল গ্রুপের এমডি সোহানী হোসেন

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
দুবাইয়ে ব্যবসায়ীদের সার্বোচ্চ সম্মান ‘পারসন অব দি ইয়ারে’ ভুষিত হলেন পাবনার ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহানী হোসেন। গত রোববার দুবাইয়ের জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে আয়োজিত ‘ওর্য়াল্ড গ্রেটেষ্ট ব্রান্ড এন্ড লিডারস’ সম্মেলনের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে পারসন অব দিন ইয়ার সম্মানে ভুষিত এবং ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। পুরুস্কার পাওয়ায় পাবনা চেম্বারসহ বিভিন্ন সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। 
১৯৬৭ সালের ২২শে জুন নাটোর জেলা সদরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। পিতা আবু সাঈদ ভূঁইয়া ও মাতার নাম লুৎফন নাহার। সোহানী হোসেন এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের ব্যবসায়ীদের সবোর্চ্চ সম্মান ‘হল অব ফেইম, এ ভুষিত হন। 
১৯৭১ সালে নাটোর কানাইখালী স্টেডিয়ামে পাক বাহিনী ক্যাম্প তৈরি করে। স্টেডিয়াম সংলগ্ন সোহানী হোসেনের বাবার বাড়ি। তখন ছিল এলাকা পুরুষশূন্য। প্রতিদিন রাতে ক্যাম্পে চলে অমানবিক নির্যাতন। কোন সময় পুরুষ কোন সময় যুবতী নারীর আর্তচিৎকার। সোহানী হোসেনের বাবা মা আদর তাকে করে ডাকতেন সোনা। ছোট কোমলমতি সোনার মনেও পাক সেনাদের বিরুদ্ধে জাগে বিদ্রোহের আগুন। একদিন সকালে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পের ভেতর ঢুকে পড়েন সোনা। দেখে রাতভর অত্যাচারিত রক্তাক্ত মানুষের করুন চেহারা। এক পাকিস্তানী মেজর তাকে আদর করার চেষ্টা করলে ছোটমনি সোনা তখন তার দুই গালে চড় বসিয়ে দেয়। মেজর তাকে ক্ষোভে বলতে থাকে ‘তুম মুক্তি হ্যায় মুক্তি’। সেই থেকে তাকে অনেকেই ছোট মুক্তিযোদ্ধা বলে ডাকতো এখনো ডাকে। 
১৯৮৯ সালে পাবনার বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিস¤পন্ন শ্যুটার আলহাজ মোবারক হোসেন রতেœর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তিনি ৫ কন্যা সন্তানের সফল মাতা। স্বামী দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ক্যান্সারে অসুস্থ থাকায় তার দেয়া দায়িত্ব পেয়ে তাকে ব্যবসার হাল ধরতে হয়। স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি সফলভাবে স্বামীর দেয়া দায়িত্ব পালন করেন এবং মহিলা শিল্প উদ্যোক্তা হিসাবে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পাবনার ইউনিভার্সাল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। 
এই সম্মানে ভুষিত হওয়ায় পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি, সহসভাপতি ফোরকান রেজা বাদশা বিশ্বাস, চেম্বারের পরিচালক ও ক্যাব সভাপতি সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমানসহ চেম্বারের সকল পরিচালক এবং ইউনিভার্সাল গ্রƒপের কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। 
এ ব্যাপারে সোহানী হোসেন বলেন, নারীরা সমাজে আর দশ জনের মত মাথা উচু করে সমাজে বাস করতে পারেন এবং নারীরা যে শুধু ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে সে ধারণা ভেঙে দিতে তিনি কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, এ অর্জন আমার দেশের, পাবনা-সিরাজগঞ্জ-নাটোরের মানুষের এবং ইউনিভার্সাল গ্রুপের প্রতিটি কর্মীর।

কোন মন্তব্য নেই