Pabna



বুলবুল কলেজের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির মূল্য বাবদ সাড়ে ৮ কোটি টাকার চেক প্রদান করার বিষয়টি আমলে নিয়েছে দুদক

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত ‘বিতর্কিত’ জমির (সাবেক অর্পিত সম্পত্তি) মূল্য বাবদ প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার চেক প্রদান করার বিষয়টি দুদক আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য নথিভুক্ত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুদক পাবনা অফিসের উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে দুদক এই বিষয়টি আমলে নিয়েছে। দুদকের বাছাই কমিটিতে এ বিষয়ে আলোচনার পর তদন্তের অনুমতির জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। 
সুত্র জানায়, পাবনা থেকে নারয়নগঞ্জে বদলী হওয়ায় জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের ‘অতিআগ্রহের’ কারণে মাত্র ৯ ঘন্টার মধ্যেই চেকটি প্রদান করা হয়। গত মঙ্গলবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে অফিস সময়ের পর অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যে দিয়ে ভ’মি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল সাড়ে আট কোটি টাকার চেকটি তপন গং এর হাতে তুলে দেন। 
সুত্র জানায়, তপন গংরা ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে ঐ সম্পত্তি নিজেদের নামে একতরফা ডিক্রি করে নেন। গত ১৯ জুন মঙ্গলবার সকালে এই জমির বিপরীতে পাবনা এলএ অফিস থেকে চেক প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করা হয় এবং সন্ধ্যায় চেক প্রদান করা হয়। বিষয়টি এতই নজিরবিহীন যে মাত্র ৯ ঘন্টার মধ্যে ‘বির্তকিত’ একটি জমির বিপুল টাকার চেক প্রদান করায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘অতিআগ্রহ’ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে দুদকের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ওবায়দুল হক পাবনার সাবেক জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন এবং ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা অনুজা মন্ডলের সঙ্গে দেখা করে চেক প্রদান স্থগীত রাখতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এর পরেও তরিঘরি করে চেক প্রদান করায় বিষয়টি দুদকের নজরে আনা হয়। 
শ্রী চন্দ্র নাথ বিগ্রহ (শিব বিগ্রহ) এর সেবাইত শ্রী স্বরুপ কুমার সান্যাল বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ব্যাক্তিগত ইন্টারেষ্টে নিজে আগহী হয়ে একটি অনস্পিত্তিকৃত সম্পত্তির সাড়ে ৮ কোটি টাকার চেক দিয়েছেন। 
অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল্লাহ বিশ্বাস হেলাল বলেন, ‘যাদের নামে চেক ইস্যু হয়েছে সেই ব্যক্তিরা পাবনার স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাদের সঠিক নাম পরিচয় পাবনার মানুষজন জানেনা। তার কোন স্থাবর অস্থাবর সম্পতিও নেই। তারা যে কোন সময় দেশ ত্যাগ করতে পারে। কেন জেলা প্রশাসন এত উৎসাহিত হয়ে এত বড় একটা ঝুকি নিলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়’। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে পাবনার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ওসি ২১১/২০১৯ নং মামলাও চলমান রয়েছে। যেখানে ওয়ারিশ ও মামলার বিষয়টি গোপন করা হয়েছে। 

কোন মন্তব্য নেই