করোনা উপেক্ষা করে ঈশ্বরদী বাজারে জনসমুদ্র, কেউ মানছে না সামাজিক দূরত্ব

ঈশ্বরদী,পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম-
মহামারী করোনাভাইরাসে নাকাল সারাবিশ্ব।
সম্প্রতি অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট দোকানপাট সীমিত পরিসরে খোলা
অনুমতি দিয়েছে সরকার। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক স্থানে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি বিবেচনায়
বন্ধ রাখা হয়েছে মার্কেট। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক,
ঢাকা নিউ মার্কেটসহ অনেক জেলায় বন্ধ রাখা হয়েছে শহরের মার্কেটগুলো। ঈদের আগে আর খুলবে না এসব
মার্কেট।
এদিকে মার্কেট খোলার একদিন পরই ১১ মে স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের অনলাইন বুলেটিনে জানানো হয় ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী এক হাজার
৩৪ জন শনাক্ত হয়েছে। বলতে গেলে দেশে করোনা পরিস্থিতি আসতে আসতে অবনতির দিকে যাচ্ছে।
এর মধ্যে ঈশ্বরদী বাজার যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ১০ মে’এর আগেই ঈশ্বরদী
বাজারে অনেক দোকান সরকারী নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ক্রয়-বিক্রয় শুরু করেছে।
করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করে গতকাল থেকে ঈশ্বরদী বাজারে ঈদের মার্কেট করতে মানুষের
ঢল নেমেছে। হুমড়ি খেয়ে পরেছে মানুষ জামা কাপড় কেনাকাটায়। মার্কেট, দোকান কোথাও মানা
হচ্ছে না সামাজিক দুরুত্ব, অনেকেই মাস্ক ছাড়াই বাজারে অবাধে ঘোরা ফেরা করছে। মানা হচ্ছে
না হাঁচি, কাশি দেয়ার শিষ্ঠাচার। মানুষের মধ্যে এক বিন্দু পরিমাণও বাড়েনি সচেতনতা। ইতিমধ্যে ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে একজন করোনা আক্রান্ত
ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি এবং স্থানীয় মসজিদ লকডাউন
করেছে।
সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে
বণিক সমিতির পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের প্রবেশ
পথগুলোতে নিরাপত্তা কর্মীরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও পুলিশ
সদস্যরা যথাসাধ্য সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঈশ্বরদীতে প্রায় সকল মার্কেট, দোকান ইতিমধ্যে
খুলেছে, কিন্তু একমাত্র বন্ধ রয়েছে ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম
বাচ্চুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পণ্য সমাহার, যা বলতে গেলে ঈশ্বরদীর সবচেয়ে বড় কসমেটিক্সের
দোকান। তিনি বলেছেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে চেয়েছিলাম ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই
দোকানপাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেন খুলে দেওয়া না হয়। কারন মানুষের সবচেয়ে মুল্যবান
সম্পদ তাঁর জীবন। ক্রেতা সাধারণ ও আমাদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে আপাতত আমাদের
দোকান খুলবোনা।
ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী বণিক সমিতির
সভাপতি আরো বলেছেন, দয়া করে সকলে সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখুন। বাজারে আপনার মত আরো মানুষ
আসবে কে ভাইরাসে আক্রান্ত কেউ জানেনা। দোকানে যখন কাস্টমার একে অপরের পাশে গাঁ ঘেষে
দাঁড়াবে তখন ভাইরাসে আক্রান্ত একজন আপনাকে আক্রান্ত করে ফেলতে পারে আর এর মাধ্যমে
আপনার সংস্পর্শতে আসা আপনার পুরো পরিবার আক্রান্ত হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই