Pabna



‘মানবতা জয়ের বাকি গল্প পুর্ণ হলো জেলা প্রশাসক ও প্রবেশন অফিসারের মাধ্যমে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম-
৫৩ দিন পর প্রথম ভাত খাচ্ছে লোকটি, নিজ হাতে তৃপ্তির সাথে। দীর্ঘদিন পর গায়ে গেঞ্জি, পরনে লুঙ্গি। ৫৩ দিনের মধ্যে প্রায় ৪৮ দিনই ছিল রাস্তায়, কখনো ধুলা মাটিতে কখনো বা আবার মাঠে। এখন সে মানুষটিই তার পরিবারে ফিরে আনন্দে ও স্বস্থির সাথে বসবাস করছে।

গল্পের শুরু গত ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখে। আফতাব আলী, এই ব্যক্তি রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যায়। বাসে পাবনা চলে আসে এবং পাবনাতেই বিভিন্ন জায়গায় পরে থাকে।
দীর্ঘদিন রাস্তায় পরে থাকা দেখে এলাকাবাসী বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও কেউ আসেনি উদ্ধার করতে। সমাজসেবা অধিদফতরের প্রবেশন অফিসার মো: পল্লব ইবনে শায়েখ বিষয়টি জানার সাথে সাথে লোকটিকে উদ্ধার করে ভ্যানে নিয়ে দ্রুত জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভর্তির একদিন পর লোকটির জ্ঞান ফিরলে সে তার বাসার ঠিকানা সম্পর্কে ধারনা দিতে পারে। সে সময় বাসা থেকে খাবার এনে খাওয়ানো হয় ঐ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে।

ধারনাকৃত ঠিকানা প্রবেশন অফিসার পল্লব ইবনে শায়েখ পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদকে জানান। জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ সাথে সাথে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো: হামিদুল হক এর সাথে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো: হামিদুল হক তার পুর্ণ ঠিকানা বের করে ঐ ব্যক্তির পরিবারের সাথে জেলা প্রশাসক পাবনার যোগাযোগ করিয়ে দেন। পাবনার জেলা প্রশাসক প্রবেশন অফিসার মো: পল্লব ইবনে শায়েখের সাথে ঐ পরিবারের সমন্বয় সাধন করেন।
পরবর্তিকালে প্রবেশন অফিসার ঐ ব্যক্তির পরিবারের নিকট ব্যক্তিকে বুঝিয়ে দেন এবং রাজশাহী ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সহায়তায় আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি। যেকোন সময় আমার কাছে এমন কোন সহায়তার প্রয়োজন আসলে আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট  অফিসারের সাথে কথা বলি। প্রয়োজনে প্রবেশন অফিসারের সাথে কথা বলি।
প্রবেশন অফিসার মো: পল্লব ইবনে শায়েখ বলেন, উদ্ধারের পর চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দিতে পেরে খুব ভাল লাগছে। তিনি জেলা প্রশাসক পাবনা ও রাজশাহীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় ফিরিয়ে দেওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজপাড়া থানায় জিডি করি। আফতাব মাঝে মাঝে এমন জ্ঞান হারায়ে ফেলে, পরে অবশ্য বাসা চিনতে পারে, কিন্তু এর আগে কখনো এইভাবে দূরে চলে যায়নি সে।

পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসক ও প্রবেশন অফিসারকে ধন্যবাদ দেন এবং বলেন এই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

কোন মন্তব্য নেই