Pabna



পাবনা-১ আসনে আবারো মুখোমুখি সাইয়িদ-টুকু


নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা-১ আসনের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাবেক দুই সংসদ সদস্য আবারো পরষ্পরের বিপক্ষে নির্বাচনে লড়াই করছেন। তারা হলো সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শামসুল হক টুকু। দুইজনই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হওয়ার জন্যে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। শামসুল হক টুকু দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষোভে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ গনফোরামে যোগ দিয়েছেন। তিনি এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন বলেও এলাকায় চলছে চরম জল্পনা কল্পনা।  

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানা গেছে, পাবনা-১ (সাথিয়া-বেড়ার একাং) আসনে বিএনপির অবস্থান শক্ত অপরদিকে জামায়াতেরও ভোট ব্যংক রয়েছে এই আসনে। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নির্বাচনী এলাকা হিসেবেও বেশ পরিচিত আসনটি। ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা নিজামী এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 
অপরদিকে আধ্যাপক আবু সাইয়িদ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মতিউর রহমান নিজামীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন এবং ওই সময়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ পালন করেন। পরে স্বংস্কার পন্থি হিসেবে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ মনোনয়ন বঞ্চিত হলে ২০০৮ সালে রাকসুর সাবেক জিএস শামসুল হক টুকু নিজামীকে হারিয়ে জয় পান। পরে তিনি বিদ্যুত ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। 
তবে আসনটিতে জামায়াতের ভোট ব্যাংক থাকলে বর্তমানে নিজামীর অবর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীরা আসনটিতে প্রার্থী দিতে চায়। তবে জামায়াতও প্রার্থী দিয়েছে ডা: আব্দুল বাসেতকে। জামায়অত নেতাদের দাবী বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের জোট বজায় থাকলে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থীকেই বিএনপি ছাড় দেবে বলে তাদের ধারণা। এ আসনে বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল বাসেত খানকে ইতিমধ্যেই জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 
এদিকে অতি সম্প্রতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদের গণফোরামে যোগ দেওয়ার বিষয়টিকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ওই আসনের সর্বত্র ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। তাহলে কে হচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী। এখানে ড. আবু সাইয়িদকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করা হলে বিএনপি ও জামায়াতের ভূমিকা কী থাকবে সেটা নিয়েও চলছে নানা প্রকার হিসেব নিকেষ।
তবে এ বিষয়ে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ঐক্যফ্রন্ট যদি আমাকে যোগ্য প্রার্থী মনে করে মনোনয়ণ দেন অবশ্যই আমি নির্বাচন করবো। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন কিনা, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতীক বিষয় নয়, আমি যেহেতু গনফোরামে যোগ দিয়েছি, সেখানে দল সে সিদ্ধান্ত নিবে, সেটাই আমার সিদ্ধান্ত। তবে সময়ই বলে দিবে কখন কি করতে হবে। 
সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব মোর্শেদ জ্যোতি বলেন, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ গণফোরামে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। দল যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করেন, আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করবো বলেও জানান তিনি। 
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মোস্তফা কামাল মানিক বলেন, এ বিষয়ে দলীয় হাই কমান্ড আমাদের যে সিদ্ধান্ত দিবেন, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো। তবে কে প্রার্থী হলো আর হলোনা সেইটা দেখার বিষয় না। 


কোন মন্তব্য নেই