Pabna



এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির উপর নিষেধাজ্ঞা পাবিপ্রবি’র..!!


বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিটিং, মিছিল, সভা ও সমাবেশ বন্ধের চার দিন পর ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পাবিপ্রবি প্রশাসন। সভা সমাবেশে নিষিদ্ধেরও পাঁচ দিন পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষনা করা হয়। 
বুধবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির উপর নিষেধাজ্ঞা জারীর এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। 
এদিকে শুক্রবারে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭০ জন শিক্ষক আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রো ভাইস চ্যান্সেলর ড. আনোয়ারুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়েও শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর ক্ষোভ। 
আগামী ১৬ নভেম্বর শুক্রবার প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 
এ প্রসঙ্গে জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা শহরের ২৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা হবে। ৯ শত ২০ টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ২ শত ৬০ জন। প্রতি আসনের জন্য গড়ে পরীক্ষার্থী ৩৬ জন।  মোট পাঁচটি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।  
দুইটি ইউনিটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ইউনিটের পরীক্ষা ১০ টা থেকে শুরু হয়ে ১১টা পর্যন্ত এবং বি ইউনিটের পরীক্ষা বিকেল সাড়ে ৩ টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হবে। তবে এ ইউনিটের স্থাপত্য বিভাগের জন্য আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট ( সকাল ১১.১৫ থেকে ১১.৪৫ মিনিট পর্যন্ত) ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হবে। 
শহরের ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭০ জন শিক্ষককে ভাড়ায় এনে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহন করানোর সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবিপ্রবি শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠার পর এই ধরনের কাজ ইতিপূর্বে না হলেও এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর তার পূর্বের কর্মস্থল থেকে শিক্ষকদের এনে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহন করানো হচ্ছে। বিষয়টি অনেকেই উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইতিমধ্যেই তাদের খাবারের জন্যে আলাদা ভাবে দায়িত্ব বন্টন করে দিয়েছেন পাবিপ্রবি প্রশাসন। তাদের খাবারের মেন্যূও নির্ধারণ করা হয়েছে। মেন্যূতে রয়েছে সাদা ভাত, এক চতুর্থাংশ মুরগীর মাংস, পাতলা ডাল, সবজী, দই প্রভৃতি। তবে বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭০ জন শিক্ষক এনে অতিরিক্ত খরচ করানোর কোন যুক্তিকতা নেই বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক। 
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাইস চ্যান্সেলর পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছেন এই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি কারোর কোন তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মতো কাজ করছেন। এর জন্যে অবশ্যই খেসারত দিতে হবে তাকে। কোন অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক এনে পরীক্ষা গ্রহন করাবেন তা দেখার বিষয়। 

অপরদিকে গত ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দশ ছাত্রকে বহিষ্কার করে অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষনার পাঁচ দিন পর সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। সভা সমাবেশ নিষিদ্ধেরও চারদিন পর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে “পাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বার্তা” সংক্রান্ত ফেসবুকে লেখালেখির উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরীক্ষার আগে অথবা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কেউ যদি অপপ্রচার অথবা গুজব ছড়ায় তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুসিয়ারী দেওয়া হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে। 

প্রসঙ্গত, গত ৫ নভেম্বর ছয় দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ ও উপাচার্যের কার্যালয়ে অবরোধের পর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ১০ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ১০ নভেম্বর ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের ৪৭তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি শৃংখলা রক্ষায় সভা ও সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।  

কোন মন্তব্য নেই