Pabna



পাবিপ্রবি বন্ধ হল ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা- ভিসির পদত্যাগের আল্টিমেটাম


বিশেষ প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের তোপের মুখে হল ছেড়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে হল ছাড়ার কথা থালেও তারা দুপুরে হল ত্যাগ করেন। গত রাতেই হল ছাড়বেন না বলে ঘোষনা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলে বিদুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে তারা হল ছাড়তে বাধ্য হয়। তবে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ক্যম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক না হলে ভিসিম প্রক্টরসহ সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রাপ্তদের পত্যাগের দাবীতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার আমাদের ৬টি দাবী নিয়ে সাধারন শিক্ষার্থী ক্যম্পাসে আন্দোলন শুরু করলে ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আমাদের নিকট এক ঘন্টা সময় নেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রিজেন্ট বোর্ডে সভা করে ১০ ছাত্রকে বহিষ্কারের সিদ্ধন্ত নেয় এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্ট কালের জন্যে বন্ধ ঘোষনা করেন। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করেছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবী জানান। 
এদিকে গত সোমবার রাতে দুই ডীন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরাসহ ২০ শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে আটকে রাখে।
পতে রাত সোমবার দিবাগত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যন্সেলর ড. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিলে আটকে পড়া শিক্ষক কর্মকর্তাদের বের করে দেন। তারা মঙ্গলবারও দুপুর পর্যন্ত ক্যম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এবং অযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগ দাবী করেন তারা। 

প্রসঙ্গত, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রোস্তম আলী ফরাজি লাঞ্ছিতের ঘটনায় ১০ ছাত্রকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ ঘটনার পর গোটা ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনার ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের এক জরুরী সভায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অর্নিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টার মধ্যে সকল ছাত্র ছাত্রীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা দুপুর পর্যন্ত হলে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ ও পানি বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করতে সক্ষম হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 
সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবী করে আসছে, কর্তৃপক্ষ দাবী মেনে নেবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন। অথচ গত ৩/৪ মাস অতিবাহিত হলেও তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন প্রকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন আমাদের বোধগম্য নয়। তবে এই অযোগ্য বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসনের পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ক্যম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক করারও দাবী করেন শিক্ষার্থীরা। তিনি একজন অযোগ্য ভিসি, প্রশাসন চালানোর মতো দক্ষতা নেই, তাই আমরা ভিসি সহ সকল প্রশাসনিক পদধারীদের পদত্যাগ দাবী করছি। 
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবী গুলো হলো: ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী সকল ব্যাচ সমূহের অর্ডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবার উন্নয়নের জন্য ভর্তূকি প্রদান, ক্লাস রুম ও চেয়ার সংকট দূর করা, পরিবহন সংকট, ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই এর ব্যাবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন। 

সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ তম রিজেন্ট বোর্ডের জরুরী সভায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অর্নিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০ ছাত্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডীন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তবে আগামী ১৬ ভর্তি প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এবং অফিস খোলা থাকবে। এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলের ও সকাল ১১ টার মধ্যে শেখ হাসিনা হলের সকল আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। 
পাবনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবনে মিজান বলেন, বেলা ২ টা পর্যন্ত আমরা হলের সামনে উপস্থিত থেকে সকল শিক্ষার্থীদের বের করে েিয় হল দুটি সীলগালা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্যম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। 

কোন মন্তব্য নেই