শীঘ্রই রাশিয়ার গ্রীডে যুক্ত হবে বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
বর্তমানে রাশিয়ার মুরমান্সকে অবস্থিত বিশ্বের প্রথম ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র একাডেমিক লামানোসভের প্রথম ইউনিটের স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্যাপাসিটির দশ শতাংশ উৎপাদনের মাধ্যমে ইউনিটটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মান করেছে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রসাটম।
গ্রীডে যুক্ত হবার পূর্বে অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতোই একাডেমিক লামানোসভের নিরাপত্তা ও কার্যদক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কতোগুলো ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রিয়্যাক্টরটির মোট উৎপাদন ক্ষমতার ১-১০% লেভেলে এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলেও চুড়ান্ত পর্বে উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে ১১০% তে উন্নীত করা হবে। প্রতিটি ধাপে বিয়্যাক্টরটির কার্যক্রম নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন ও পর্যালোচনা করবেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ২০১৯ সালের মার্চ মাস নাগাদ এ কার্যক্রম চলবে এবং একই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে রাশিয়ার সর্ব উত্তর-পূর্ব অঞ্চল চুকোতকার পেভেক বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পর গ্রীডে যুক্ত করা হবে।
রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচভ জানান, “নির্ধারিত শিডিউল মোতাবেক কাজ এগিয়ে চলছে এবং কোনও সন্দেহ নেই, যে আগামী শরতেই পরিকল্পনা অনুযায়ী একাডেমিক লামানোসভকে পেভেকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আমাদের এই নতুন প্রোডাক্টটি শুধুমাত্র রাশিয়ার গ্রীড-বহির্ভূত উত্তর মেরু অঞ্চলই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযোগী বলে বিবেচিত হবে।”
“ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিয়্যাক্টর ব্যবহারে আগ্রহী সম্ভাব্য পার্টনারদের জন্য আমরা একটি রেফারেন্স প্রযুক্তি উপস্থাপন করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এ জাতীয় প্রোডাক্টের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিশ্বের পরমাণু প্রযুক্তির বাজারে রাশিয়ার শীর্ষ অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মূলত একটি চলনক্ষম স্বল্প ক্ষমতা সম্পন্ন রিয়্যাক্টর সমৃদ্ধ স্থাপনা। যে সকল দূরবর্তী স্থান বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থিত বা যেখানে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ দুঃসাধ্য, সে সকল স্থানের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী। এ জাতীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো শুধুমাত্র অবিরাম বিদ্যুৎ সরবরাহই নিশ্চিত করে না, একই সঙ্গে পানির লবনাক্ততা দূরীকরণেও সক্ষম।
একাডেমিক লামানোসভে প্রতিটি ৩৫ মেগা ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ রিয়্যাক্টর রয়েছে। কেন্দ্রটীর আয়ুষ্কাল ৪০ বছর, তবে তা ৫০ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা সম্ভব।
রাশিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় প্রজন্মের ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কাজ করছে। এগুলোতে যে ২টি রিয়্যাক্টর থাকবে তার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৫০ মেগাওয়াট, আকারও হবে অপেক্ষাকৃত ছোট।
রাশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের রুপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাস্তবায়নে কাজ করছে। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতিটি ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দু’টি বিদ্যুৎ ইউনিট থাকবে। প্রকল্পটিতে বিশ্বের সর্বাধুনিক এবং সর্বাধিক নিরাপদ ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই