পাবনায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের জাতীয় সংগীত অবমাননা-সমালোচনার ঝড়
বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনায় শত শত স্কুল শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের প্রীতি ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট খেলাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় বইছে। যারা আইন শেখান তারাই আইন ভঙ্গ করার বিষয়টি নিয়ে পাবনায় টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে।
প্রয়াত শিল্পপতি স্যামসন এই চৌধুরী স্মরণে আজ শনিবার সকালে পাবনা পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে প্রীতি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলায় একদিকে অংশ নেয় স্যামসন এইচ চৌধুরী টেনিস কমপ্লেক্স ও জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের সমন্ময়ে গঠিত লাল দল এবং অপর পক্ষে জেলার বিচার বিভাগের একাদশ সবুজ দল। সকালে খেলার উদ্বোধন করেন স্থানীয় শিল্পপতি ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।
পাবনা পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল আকতার জানান, শীতকালে আমাদের প্রতিষ্ঠানে সাধারনত দুই শিফট একসাথে এসম্বলি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিনের ন্যায় সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে সমাবেত হয়। ১১টা ৪০ মিনিটের সময় শুরু হয় জাতীয় সংগীত। এ সময় একই মাঠের অপর পাশে প্রশাসনের খেলা চলছিল। আমি পুলিশ সুপার স্যারের অনুমতি নিয়েই এসেম্বলি শুরু করলেও জাতীয় সংগীতের সময় খেলাটি বন্ধ করা উচিত থাকলেও অজ্ঞাত বশত করা হয়নি। এখন বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করছেন।
এ বিষয়ে লাল দলের খোলোয়ার ও সাথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি তো খেলোয়ার হিসেবে মাঠে অংশ গ্রহন করেছি মাত্র। বিষয়টি আয়োজকরা ভালো বলতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে দুঃখের সাথে বলেন, পাবনা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সমস্ত কর্মকর্তারা এই খেলায় অংশ গ্রহন করেন। পাশেই সাড়ে ৯ শত শিক্ষার্থীরা মাইকে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করলেন অথচ তাদের কারোর দৃষ্টিগোচর হয়নি, বিষয়টি খুবই কষ্টের ও দুঃখের।
ওই বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণীর অন্তত: ২০ জন শিক্ষার্থীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে প্রশাসন ও আইনের রক্ষকরাই যদি জাতীয় সংগীত অবমাননা করেন, তাহলে আমরা শিখবো কাদের কাছে?
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শাহেদ পারভেজ এর সাথে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য না করে ফোনটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং পরে একাধিকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, যারা আইন শেখান, তারাই আইন ভঙ্গ করা অবশ্যই দৃষ্টিকটু। আমি খেলাটি উদ্বোধনের পর পরই এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে চলে যাই। তবে দুটি বিষয়টি সমন্ময় (এডজাষ্ট) করা উচিত ছিল।
প্রসঙ্গত, খেলায় জেলা প্রশাসনের লাল দল ৫ উইকেটে জয়লাভ করে। আটঘরিয়ার ইউএনও আকরাম আলী ম্যান অব দি ম্যাচ নির্বাচিত হন।




কোন মন্তব্য নেই