Pabna



এসএমই ফাউন্ডেশন বর্ষসেরা উদ্যোক্তা পুরষ্কার পেলেন পাবনার সুমনা

বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
সপ্তম জাতীয় এসএমই ফাউন্ডেশন বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা-২০১৯ পুরষ্কার পেলেন পাবনার সুমনা সুলতানা। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই উদ্যোক্তাদের অবদান ও অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি স্বরুপ এসএমই ফাউন্ডেশন পুরুষ ও নারী ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০১৯ দেওয়া হয়। গত শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেম’-এ শুরু হওয়া সাপ্তাহব্যাপী এসএমই পল্য মেলা উপলক্ষ্যে এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তরা অন্যরা হলেন- তাহরিমা বেগম, মো: অলি উল্লাহ, মহিউদ্দিন, নাজমা খাতুন কুসুম ও  আরিফা ইয়াসমিন ময়ূরী। নারী ক্যাটাগরিতে পাবনার ভাঙ্গুড়ার পাটুলীপাড়ার এসআর হ্যান্ডিক্র্যাফটস এর স্বত্তাধিকারী সুমনা সুলতানা সাথী ২য় হন। পুরষ্কার বিতরন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, শিল্পপ্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প মন্ত্রনালয়ের সচীব মোঃ আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিব উল্লাহ।  
মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা ঘুরে দেখার সুযোগ থাকছে। মেলায় ঢুকতে কোনো প্রবেশ ফি দিতে হবে না এবং ২২ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ বছর সারা দেশে থেকে ২৮০টি এসএমই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য নিয়ে এই মেলায় অংশ গ্রহন করেছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১৮৮ জন নারী এবং ৯২ জন পুরুষ রয়েছে। 
এ বিষয়ে পুরষ্কার প্রাপ্ত ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলীপাড়ার এসআর হ্যান্ডিক্র্যাফটস এর স্বত্তাধিকারী সুমনা সুলতানা সাথী বলেন, শেখার প্রচন্ড আগ্রহ মানুষের চিন্তা শক্তিকে বিকশিত করে, সৃষ্টিশীল করে ভাবনার জগত। আর এই সৃষ্টিশীলতাই মানুষকে উদ্যোগী করে তোলে। 
২০০২ সালে অনার্সে পড়াকালীন সময় শেখার আগ্রহ থেকেই এই কাজে হাতে খড়ি সুমনার তিনি আরো বলেন, আমার ছোট ফুপু আড়ং এর সাথে ব্যবসা করতেন। হাতের কাজে দক্ষতা থাকায় আমার মা কাজ করতেন সেখানে। মূলত মায়ের কাজ দেখেই সব ধরনের হাতের কাজ শিখি এবং কাজ করতে থাকি ফুপুর সাথে।
এরই মাঝে বিয়ের হয়ে যায় সুমনার। পড়াশোনা আর সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বেশ। সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেই উদ্যোক্তা হবেন, নিজেই নিজের ভাগ্য বদলাবেন। আড়ং এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে উদ্যোক্তা সহায়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিলেন এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বিসিক থেকে। মাত্র দুই জন কর্মী নিয়ে পাবনার ভাংগুরায় ছোট্ট পরিসরেই এসআর হ্যান্ডিক্রাফটস এর পথচলা সূচনা হয়। শুরুটা সহজ ছিলোনা। কাজের মান এবং দৃঢ় মনোবলে অল্প সময়েই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন উদ্যোক্তা। নিজের কারখানায় কাজের পাশাপাশি উদ্যোক্তা মনোনিবেশ করেন কর্মী তৈরিতে। এ লক্ষ্যে পাবনা, সাতক্ষীরা, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে নিজেই প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী তৈরি করে কাজ আদায় করে নিচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে ৩২ জন কর্মী নিয়মিত কাজ করছেন উদ্যোক্তার কারখানায়। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে কাজ করছেন প্রায় সাড়ে চার শত কর্মী এবং অস্থায়ী কর্মী রয়েছে প্রাায় তিন শতাধিক। এদের সিংহভাগই নারী কর্মী, যাদের সাথে উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন নিবিড় সম্পর্ক। প্রতিবছর প্রণোদনার উদ্দেশ্যে কাজের ভিত্তিতে কর্মীদের পুরস্কৃত করেন তিনি।
তার কারখানায় তৈরি কুশন কাভার, বেড কাভার, পর্দা, টেবিল ক্লথ, বাচ্চাদের পোশাক দেশব্যাপী শোভা পাচ্ছে আড়ং এর বিভিন্ন শোরুমে। এছাড়াও নিজের পণ্য নিয়ে বিভিন্ন মেলায় অংশ গ্রহণ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। 
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এই উদ্যোক্তা বলেন, আমার পণ্য নিয়ে বিশ্ব দরবারে পৌঁছাতে চাই, বেকার নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে চান তিনি। তিনি আরো আশা প্রকাশ করেন, দেশের বাইরে পণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে সরকারি এবং বেসরকারী সহায়তা পেলে নারী উদ্যোক্তারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।

কোন মন্তব্য নেই