আমিনপুরের রতনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা-সংঘর্ষের আশংকা
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনার বেড়া উপজেলার রতনগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন নিয়ে ব্যপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সাথে সংঘর্ষের আশংকা করছেন শিক্ষক-শিক্ষাথীসহ স্থানীয়রা। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
আমিনপুর থানার রতনগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিয়মানুযায়ী উপজেল নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্ব উদ্যোগে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খবির উদ্দিনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। নির্বাচন কমিশনার বিধি মেতাবেক আগামী ৫মে নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা করলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এর হস্তক্ষেপে পিছিয়ে ১২ মে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় নির্বাচনী উত্তেজনা। সাগরকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহিন চৌধূরীর একটি পক্ষ এবং অপরদিকে রয়েছেন মাসুমদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল হক শহিদ। এই দুই পক্ষ বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন বলে একাধিক অভিভাবকরা জানান।
অভিভাবকরা আরো জানান, শাহিন চৌধুরীর অবস্থান ভাল হওয়ার কারনেই এমপি আহমেদ ফিরোজ কবিরের সমর্থক শহিদ চেয়ারম্যানের লোকজন জোর করে এই বিদ্যালয়টি পরিচালনা কমিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়েছেন। অপরদিকে নিজ পারিবারের লোকজনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি পরিচালনার দায়িত্বে রাখতে চান বতৃমান সভাপতি শাহিন চৌধূরী। এই বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিনে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ও সাগরকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিন চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়েল অবস্থান উপজেলা পর্যায়ে অনেক ভালো হওয়ায় একটি মহল প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে এমপি মহোদয়ের নাম ব্যবহার করে কমিটি জবর দখলের অপচেষ্টা করছেন। আমরা সবাই চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে অভিভাবকদের ভোটে বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পাবে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা রাজনৈতিক ভাবে বৈঠকও হয়েছে। তারা যে কোন মুল্যে কমিটিতে আসতে চায়। যার ফরে গতকাল সন্ধ্যায় দুই শিক্ষককে আয়েনের ঢোপ নামক স্থানে জোড়পূর্বক ধরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন শহিদ চেয়ারম্যান। এটি সত্যিই ন্যাক্কারজনক বটে। তবে আমরা সব সময়ই চাই এই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নির্বাচিত হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের আরো জানান, একটি মহল বিদ্যালয়টির পরিবেশ বিশৃংখলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন, আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এদিকে মাসুমদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল হক শহিদের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।



কোন মন্তব্য নেই