Pabna



আফুরিয়ায় যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরীর কারখানায় ডিবি’র অভিযানে গ্রেফতার ৩, কারখানা সীলগালা

বিশেষ প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনায় যোন উত্তেজক সিরাপ তৈরীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৩ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে নওগা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে তারা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারের পর কারখানাটি সীলগালা করে দেয়। গত কয়েক বছর ধরে পাবনার বিভিন্ন স্থানে ফ্রুট সিরাপের নামে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরী করে বাজারজাত করে আসছেন একটি চক্র। ওই চক্র একটি সমিতির ব্যানারে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রশাসনকে উৎকোচ দিয়ে তারা এই অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর তাদের উৎপাদিত এইসব যোন উত্তেজক সিরাপ খেয়ে বেকার যুবক থেকে সাধারন শিক্ষার্থীরাও এই সিরাপের প্রতি আসক্ত হয়ে পরেছে। 
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিমন রায় বলেন, সম্প্রতি নওগাঁতে পাবনার আফুরিয়ার ফাস্টফুড ইন্ড্রা: প্রা: লি: কর্তৃক তৈরীকৃত যৌন উত্তেজনা বর্ধক ফাস্ট কিংস আপ ফ্রুট সিরাপ পান করার পর এক ব্যাক্তি একটি বাড়িতে প্রবেশ করে মেয়ের মাকে হত্যার পর মেয়েকে ধর্ষণ করেন। যা সমগ্র দেশে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে।  
নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পাবনা সদর উপজেলার আফুরিয়া ফাষ্ট ফিলিংস নামের ওই ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজা, নজরুলসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। সেই সাথে ফ্যাক্টরী সিলগালা করা হয়েছে। একই সাথে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান এই কোম্পানীর মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এটা তো মূলত বিষ, টাকার হিসেবে বলা মুশকিল বলেও তিনি জানান। 
তিনি আরো জানান, পাবনার ফাষ্ট ফিলিংস ফ্যাক্টরীতে দীর্ঘদিন ধরে হট ফিলিংসসহ ৩টি আইটেমে সেক্সুয়ের ড্রিংক্স তৈরী করা হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মুদির দোকানে বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। ফ্যাক্টরীর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক সেক্সুয়েল ড্রাগ তৈরী করছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ফ্যাক্টরীর মালিক পাবনার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্র ছাঁয়ায় থাকার কারণে এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এই ফ্যাক্টরীর উৎপাদিত হট ফিলিং সেক্সুয়েল ড্রিংক্স সেবন করে নওগাঁয় এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে অসুস্থ্য অবস্থায় নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 
এদিকে অতিমুনাফার জন্যে পাবনায় একটিচক্র এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তারা ২২ জনের একটি সমতি করে এই উত্তেজক সিরাপ তৈরী ও বাজারজাত করছেন। 
পাবনার একাধিক ইউনানী ও আয়ুর্বেদী ফার্মাসিউটিক্যঅল কোম্পানীও এই সিরাপ উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। ঔষুধ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে উৎপাদিত হলেও হলে দেশের বিভিন্ন মুদি দোকানে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। যা ঔষুধ প্রশাসনের নিয়ম বিহর্ভূত বলেও জানান পাবনা ঔষুধ প্রশাসনে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।  
এ ব্যাপারে পাবনা চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজের পরিচালক এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, ড্রাগের চেয়েও ক্ষতিকর এই সিরাপটি পাবনার অন্তত অর্ধশত কারখানা রয়েছে। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তারা এই সিরাপ তৈরী করে আসছেন। এই পণ্যটির ভেক্তা হলো ট্রাক চালক, রিক্সা চালক থেকে শুরু করে বেকার যুবক ও শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। 
এ বিষয়ে পাবনার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: রাম দুলাল ভৈৗমিক বলেন, এ ধরনের মান নিয়ন্ত্রনহীন যোন উত্তেজক সিরাপ সেবনে তাৎক্ষনিক উত্তেজনা দেখা দিলেও দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রীয়ার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে লিভার, কিডনী ড্যামেজের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে সেবনকারীরা। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর নজরদারীর দাবীও জানান। 
এ বিষয়ে পাবনার ফাস্টফুড ইন্ড্রা: প্রা: লিমিেিটডের স্বত্বাধিকারী অঅব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমার মন মানসিকতা ভালেঅ নেই, একটু সহযোগিতা করার জন্যেও অনুরোধ জানান। 
পাবনার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, এই সিরাপ তৈরী কারখানা মালিকরা দেশের যুব সমাজকে ধংস্ব করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষরা দেখেও না দেখার ভাণ করছেন। কারখানা মালিকদের ওই চক্র এতোটাই প্রভাবশালী যে, প্রতিদিন বিকেলে শহরের বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভির্সের সামনে গেলেই দেখা যায় তারা শত শত কার্টুন ভরে ওই সিরাপ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছেন। যুব সমাজকে রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর দাবী জানিয়েছেন তিনি।
পাবনার আনাচে কানাচেগড়ে ওঠা এ ধরনের কারখানা বন্ধের দাবী জানয়েছেন পাবনার সচেতন মহল। 

কোন মন্তব্য নেই