আদালেতের নির্দেশে পাবিপ্রবি’র শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, ১৫ দিনের কারণ দর্শানো নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বব্যিালয়ের ইতিহাস ও বাংলাদেশ ষ্টাডিজ বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করে কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ওই পদের এক প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
পাবনা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়েরকৃত আবেদন থেকে জানা গেছে, পাবনা সদরের গোবিন্দা মহল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের ছেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়েল সেকমন অফিসার জহুরুল ইসলাম প্রিন্স সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মারফত প্রভাষক নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারে এবং ওই পদের জন্যে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ওই বছরের ৯ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্যে এডমিট কার্ড ইস্যূ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনিবার্য কারনে নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ওই পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ এবং সেখানে উল্লেখ করা হয় পুরাতন আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন নেই। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ আগামী ২৭ জুন পরীক্ষার দিন ধার্য্য করে অন্যায় ও অবৈধ ভাবে আমাকে বাদ দিয়ে অন্যান্যদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্যে এডমিট কার্ড ইস্যূ করেন। বিষয়টি বাদী জানতে পেরে আদালতের শরনাপন্ন হন।
পরে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ২৭ জুন অনুষ্ঠিত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও বাংলাদেশ ষ্টাডিজ বিষয়ে প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। এ বিষয়টি নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইতিপূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতার কারনে পরীক্ষা স্থগীত হয়। এদিকে প্রায় ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাবনায় এসে পৌছেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান। ফলে পরীক্ষায় অংশগ্রহকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
বাদী জহুরুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, সম্পূর্ণ অনৈতিক ভাবে আমাকে এডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি। এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি বলেও দাবী করেন। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি বিধায় আইনের আশ্রয় নিয়েছি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের আরো সজাগ হওয়া প্রয়োজন ছিল। কর্তৃপক্ষের অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতার কারনে পরীক্ষা স্থগীত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যেই পরীক্ষার্থী পাবনায় এসে পরীক্ষা বন্ধের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যা খুবই কষ্টের বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাবিপ্রবি’র ভাইস চ্যান্সেলর ড. রোস্তম আলী আদালতের নোটিশ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই